ইজতেমায় লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দেশি-বিদেশি লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে জুমার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত জেলা ও বিদেশ থেকে আগত মুসুল্লি ছাড়াও ঢাকা-গাজীপুর জেলাসহ নিকট দূরত্বের মুসল্লিরাও নামাজে অংশ নেন।

শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে জুমার নামাজ শুরু হয়। নামাজ শেষ হয় ১টা ৫২ মিনিটে। নামাজের ইমামতি করেন দিল্লি মারকাজের আমির মাওলানা কান্ধলভী।

সরেজমিনে দেখা যায়, তুরাগ তীরের মূল ইজতেমা ময়দান ছাড়াও টঙ্গী-গাজীপুরের মূল সড়কে অবস্থান নেন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা। ৫ টাকায় কাগজের ও প্লাস্টিকের নামাজি পাটি কিনে নামাজে দাঁড়ায় তারা। আবারও মুসল্লিদের অনেকে জায়নামাজ ও মাদুর নিসে আসেন।

লাখো মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে বয়স্কদের শিশুরা যোগ দেন। নামাজের সময় মূল সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঈমামের নামাজের তেলাওয়াত ছাড়া পুরো এলাকায় নেমে আসে নিরবতা। নামাজ শেষ আবারও শুরু হয় যান চলাচল।

এর আগে আজ (শুক্রবার) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। দুপুর গড়াতেই ইজতেমা ময়দান অভিমুখে মুসল্লিদের ঢল নামে। জুমার নামাজের আগে পুরো ইজতেমা ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ময়দানের মোট ১৭টি প্রবেশ পথ দিয়েই জুমায় যোগ দেন মুসল্লিরা। প্রবেশদ্বারগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন ইজতেমার স্বেচ্ছাসেবকরাও।

ইজতেমায় আব্দুল বাশির (৬৬) এক বৃদ্ধ মুসুল্লি বলেন, জীবনের বিরাট অংশ নাফরমানি করে কেটেছে। জীবনের শেষ সময় টুকু আল্লাহর পথে কাটাতে চাই। যে কারণে গত ৪ বছর ধরে ইজতেমায় আসছি গুনাহ মাফের আশায়।

এদিকে ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার তৎপরতা লক্ষ্যণীয়। লাখো মুসল্লির নিরাপত্তায় র্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সাদা পোশাকে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১০ হাজার সদস্য কাজ করা হয়েছে।

এছাড়া ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে প্রথম পর্বের ন্যায় দ্বিতীয় পর্বেও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ইজতেমা ময়দানের উত্তর পার্শ্বে নিউ মন্নু কটন মিলের অভ্যন্তরে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে এ বছরও বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজধানীর গুলিস্থান, ফুলবাড়িয়া, কমলাপুর, মতিঝিল, ফার্মগেট, গাবতলী, মহাখালী, আজিমপুর থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত বিশেষ বাস সার্ভিস চালু রয়েছে।