‘রিকশা থামিয়ে কুনিওকে গুলি করে জঙ্গি মাসুদ’

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে রিকশায় করে নিজের ঘাসের খামারে যাওয়ার পথে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিওকে গুলি করে জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য মাসুদ রানা। ঘটনার পর মোটরসাইকেলে করে মাসুদ ও তার সঙ্গী অন্য দুই জঙ্গি পালিয়ে যায়। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে হত্যাকাণ্ডের তিন প্রত্যক্ষদর্শী এসব কথা জানিয়েছেন।

রংপুরে ওসি কুনিও হত্যা মামলায় জেএমবি জঙ্গিদের বিচার চলছে। এরই অংশ হিসেবে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) ঘটনার তিন প্রত্যক্ষদর্শীসহ পাঁচ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। এসময় জঙ্গি মাসুদ রানাকে তিন প্রত্যক্ষদর্শীই মূল হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) আবারও পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার আসামি পাঁচ জেএমবি জঙ্গি মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন, লিটন ও আবু সাঈদকে আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

প্রথমে সাক্ষ্য দেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামের ঘটনাস্থলের পাশের বাসার মালিক মুরাদ। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যার মূল নায়ক জঙ্গি মাসুদকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় দেখিয়ে দিয়ে বলেন ‘এই মাসুদ রানা নিজ হাতে গুলি করেছে জাপানি নাগরিককে।’

একইভাবে সাক্ষ্য দেন ওসি কুনিওকে রিকশায় করে খামারে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক মোন্নাফ। তিনি ঘটনার বর্নণা দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মাসুদ রানাকে দেখিয়ে বলেন, ‘সে জাপানি নাগরিককে রিকশা থামিয়ে গুলি করেছে।’

একই সাক্ষ্য দিয়েছেন ঘটনাস্থলের কাছে থাকা চায়ের দোকানদার আব্দুল্লা আল মামুন। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘একটি লাল রংয়ের মোটরসাইকেলে করে তিনজন ঘটনাস্থলে আসে। একজন মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আর দুজন জাপানি নাগরিককে গুলি করে।’ এদের মধ্যে মাসুদ রানাকে দেখিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাকে চিনতে পেরেছেন।

এছাড়াও আলুটারী গ্রামের আশরাফ আলী ও নুরুল ইসলাম আদালতে সাক্ষ্য দেন। পাঁচ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বুধবার আবারও পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারী গ্রামে রিকশায় করে নিজের ঘাসের খামারে যাওয়ার সময় দুবৃর্ত্তরা জাপানি নাগরিক ওসি কুনিওকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে জেএমবির জঙ্গি মাসুদ রানা গ্রেফতার হওয়ার পর জেএমবির জঙ্গিরাই জাপানি নাগরিককে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে মাসুদ রানা ছাড়াও আরও চার জঙ্গি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আট জঙ্গির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।