পানি নিয়ে ১০০ বছরের মহাপরিকল্পনা

নদীবেষ্টিত বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে বন্যা, খরা, সাইক্লোন, পানির গুণাগুণ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যা সুপেয় পানির নিশ্চয়তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। সুপেয় পানির নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এ ঝুঁকি মোকাবেলায় ১০০ বছরের মহাপরিকল্পনা করছে সরকার।

পরিকল্পনায় দেশের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতি, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ খাতকে সমন্বিত করে সার্বিক উন্নতির লক্ষে ভবিষ্যৎ করণীয় ও পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। আর ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ শীর্ষক এ পরিকল্পনা তৈরিতে সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ইতোমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তির আওতায় দেশটি এ পরিকল্পনা তৈরিতে বড় অংকের অনুদানও দিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শাসসুল আলম বলেন, আশা করছি একটি যুগোপযোগী পরিকল্পনা তৈরি সম্ভব হবে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও নেদারল্যান্ডস সরকার সহযোগিতাও করছে। চলতি বছরের মধ্যেই এর কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসে খুবই শক্তিশালী ডেল্টা কমিশন রয়েছে। সেই আদলে বাংলাদেশেও করা হচ্ছে। ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের সঙ্গে অনেকগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যুক্ত থাকবে। তাই একক কোনো মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় কিংবা মনিটরিং করা সম্ভব হবে না। এজন্য আইন তৈরির মাধ্যমে ডেল্টা কমিশন গঠন করা হবে।

জিইডি সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৫৩ শতাংশ। যদিও প্ল্যান প্রণয়নের জন্য অনুমোদিত ৩০ মাসের মধ্যে কাজ শেষ না করার কথা ছিল। তবে তা না হওয়ার কারণ হিসেবে দেরিতে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়াকে দায়ী করেছে কমিশন।

সূত্র জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রেক্ষাপটে দেশের পানি সম্পদ নিয়ে ১০০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার তৈরি করা হচ্ছে। সরকার সম্প্রতি পানি সম্পদ, কৃষি, ভূমি ব্যবহার, মৎস্য, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনা, নীতি, কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বড় মাত্রার ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা এককভাবে বাস্তবায়নে সুফল আসে না। একক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করলেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া যায় না। পাশাপাশি একক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্বৈততার সৃষ্টি হয়ে সম্পদের অপচয় হচ্ছে। সে কারণেই ৫০ থেকে ১০০ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

এছাড়া দেশের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত ইস্যুসমূহ যথাযথভাবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি এ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য সরকার এই পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার জন্য ৩০ মাস মেয়াদি এই মহাপরিকল্পনা তৈরির প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ৯ মাস পরে।-জাগো নিউজ

ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৮৭ কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। যেখানে নেদারল্যান্ডস সরকার ৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ১২ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নের অংশটি কমিয়ে মোট ব্যয় ৮৫ কোটি ৬৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় করার সংশোধনী প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।