গন মাধ্যমের অতীতের চেয়ে হুমকির মুখি!

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় হুমকির মুখে। গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ) এ মন্তব্য করেছে। সংস্থাটি সম্প্রতি ‘বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক ২০১৭’ প্রকাশ করে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, একনায়ক, প্রোপাগান্ডা আর ভুয়া সংবাদের এই যুগে সাংবাদিকতা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সূচকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে যথাক্রমে ৪৩ ও ৪০। শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে। আর সবশেষে উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ নেমে ১৪৬।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একনায়কদের উত্থান ঘটছে। আমরা সত্য-পরবর্তী (পোস্ট-ট্রুথ), প্রোপাগান্ডা ও স্বাধীনতা দমনের যুগে পৌঁছেছি, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অতীতে কখনই এতটা হুমকির মুখে ছিল না।’
বলা হয়, কয়েক বছর ধরে গৃহযুদ্ধের কবলে থাকা সিরিয়া ছিল সাংবাদিকদের জন্য প্রাণঘাতী দেশ। অপরদিকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারাগার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে তুরস্ক ও মিশরকে। রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের তুরস্কে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পর ৮১ সাংবাদিককে আটক করা হয়। আবদেল ফাতাহ আল সিসির   মিশরে আটক করা হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের।
আরএসএফ-এর রিপোর্টে আরো বলা হয়, কয়েকটি গণতান্ত্রিক দেশেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমছে। এজন্য নজরদারি করা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের অধিকার হরণকে দায়ী করেছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেনকে এমন গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে যেখানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এ দুটি দেশ এই সূচকে নিচে নেমে যথাক্রমে ৪৩ ও ৪০তম স্থানে রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও বৃটেনের ব্রেক্সিট প্রচারাভিযানের সময় মিডিয়ার সমালোচনার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব সমালোচনা ‘বিশ্বকে সত্য-পরবর্তী, ভুল তথ্য ও ভুয়া সংবাদের যুগে ঠেলে দিয়েছে’। আরএসএফ-এর মহাসচিব ক্রিস্টোফ দেলোয়ের বলেন, যে হারে গণতান্ত্রিক দেশগুলো ওই বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যারা বোঝেন যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত না হলে অন্যান্য স্বাধীনতারও নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না তাদের জন্য এটা উদ্বেগজনক।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ৭২টি দেশে বেশ সাংঘাতিক অবস্থায় পৌঁছেছে। এ দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, ভারত, চীন ও তুরস্ক রয়েছে। নরওয়ের সংবাদমাধ্যম বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তালিকায় একেবারে নিচে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স এর এ বছরের সূচকে দেশভিত্তিক বিবরণে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার দেশের সংবিধান বা রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সমালোচনাকে সহজভাবে নেয় না। যেসব সাংবাদিক ও ব্লগার এ বিষয়গুলোতে সেন্সরশিপ বা সেলফ-সেন্সরশিপের বিরোধিতা করেন তারা হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড বা ইসলামপন্থি  জঙ্গিদের দ্বারা হত্যার ঝুঁকিতে পড়ে যান। জঙ্গিরা প্রায়ই অনলাইনে স্পষ্টভাষী ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখকদের হত্যার আহ্বান জানায়। দেশটিতে সত্যিকার অর্থে বহুত্ববাদ রয়েছে। তবে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ঘরোয়া সহিংসতা ও দোষীরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়মুক্তি উপভোগ করায় মিডিয়ায় সেলফ সেন্সরশিপ বাড়ছে। ২০১৬ সালে সরকার তার সমালোচকদের প্রতি বিশেষ করে মিডিয়ার প্রতি কঠোরতর অবস্থান নিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে মিডিয়ার প্রতি বৈরী বক্তব্য প্রদান, কয়েক ডজন ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া এবং অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।