সরকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্ত করার নির্দেশ’

বাংলাদেশ থেকে ‘এক বছরে ৭৩ হাজার কোটি পাচার কোটি পাচার’ সংক্রান্ত ওয়াশিংটনভিত্তিক গ্লোবাল ফাইনান্সিয়াল ইনট্রিগ্রিটি (জিএফআই) প্রকাশিত প্রতিবেদন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে ইতোমধ্যেই বিষয়টি তদন্ত বা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটির সত্যতা সম্পর্কে পরিস্কার না হলেও সরকার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না। অর্থ চুরি কিংবা পাচার রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে, আইন প্রয়োগে কখনোই পিছপা হবে না। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এসব কথা বলেন। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের সম্পুরক প্রশ্নের তিনি বলেন, যে ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বিশাল অংকের টাকা। বর্তমানে উন্মুক্ত তথ্য প্রবাহের যুগে আমরা অনেক তথ্য পেয়ে থাকি। সেখানে অনেক ভাল তথ্যের পাশাপাশি অনেক প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যও থাকে। তবে আমরা জিএফআই’র প্রকাশিত তথ্যকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনটিলিজেন্স ইউনিট রয়েছে, তাদের কাজই হচ্ছে এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা, তদন্ত ও খোঁজ-খবর নেয়া। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা এই চুরির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। সরকার তাতে সার্বিক সহায়তা ও নির্দেশনা দেবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চুরি না হয়। তবে একটি কথা বলবো যে- চুরি অহরহ হবেই, তবে আমাদের সাবধান হতে হবে। তবে আইন প্রয়োগে আমরা পিছু পা হবো না। সরকারী দলের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থপাচার রোধে বর্তমানে বাংলাদেশে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১৩ বলবৎ রয়েছে, যা সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৬ নবেম্বর সংশোধিত হয়। এ আইনের বিধান অনুসারে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার মানিলন্ডারিং অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আইনে অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনি¤œ চার বছর এবং সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড এবং এর অতিরিক্ত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্যের সমপরিমাণ বা ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।