কারচুপি জিনিষটা আমি বুঝিনা-চিত্রনায়িকা মৌসুমী

আমাকে যেভাবে দাগ দিতে বলা হয়েছে, আমি সেভাবে দাগ দিয়েছি। ২৫টা শিটে আমাকে সাইন করতে বলা হয়েছে। আমি সাইন করেছি। কারচুপি হলে, সেটা তো আমাদের সামনে হবে না। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। কারচুপি জিনিসটা আমি বুঝিও না।’

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী সমিতির নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার ও চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর, নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ডের সদস্য খোরশেদ আলম খসরু, চিত্রনায়ক ওমর সানি প্রমুখ।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন গত শুক্রবার হলেও আজ মঙ্গলবার ভোট পুনর্গণনা করা হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর সানির অভিযোগ ও ফল বাতিলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট আপিল বোর্ড আজ ভোট পুনরায় গুনে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা আপিল বোর্ডের উদ্দেশে ওমর সানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। সে সময় আপিল বোর্ডের সদস্য খসরু চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি তো ভোট গণনার সময় পুরো সময়টা আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আপনি কোনো কারচুপি বা কোনো প্রভাব বিস্তারের কোনো কিছু দেখছেন কি না?’ জবাবে মৌসুমী উল্লিখিত বক্তব্য দেন।

গত রোববার আপিল বোর্ডের কাছে পাঠানো আবেদনপত্রে ওমর সানি বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি পক্ষ তাদের স্বার্থে নির্বাচন বোর্ডকে প্রভাবিত করেছে। এমতাবস্থায় এই রকম অসংগতিপূর্ণ ফলাফল সম্পূর্ণ কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে আমি এই ফলাফল বাতিল করা, নির্বাচন বাতিল করার আবেদন করছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ নির্বাচন কমিশনার ও চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর বলেন, ‘ক্যালকুলেটরে ভুল গণনার কারণে আপ-ডাউন হয়ে গেছে। এই কারণে নয়টা ভোট কাউন্ট করা হয় নাই। এ কারণে সামান্য বিভ্রান্তি দূর হয়েছিল।’

‘টোটাল ভোটের মধ্যে দুটি জাল ছিল। সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ভোটে কারচুপির বিষয়টা মেনে নেবেন কি না, জানতে চাইলে ওমর সানি বলেন, ‘আমি রাতে ডিনার করব কি না, সেটাই তো বলতে পারি না। সুতরাং এই বিষয়টা কী করে বলব?’

‘আমাদের সিনিয়র শিল্পী আছেন রাজ্জাক সাহেব, আলমগীর সাহেব, সোহেল রানা সাহেব। ওনারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেটা মেনে নেব।’