আপন জুয়েলার্সের সাড়ে ১৩ মণ সোনা বাজেয়াপ্ত হচ্ছে!

সোনা ব্যবসার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিবন্ধন নম্বর থাকলেই বৈধভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুলে মোট দামের ৪ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে দেশে সোনা আমদানি করার বিধান রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী চোরাই পথে আনা সোনায় নির্ভর করে চলছে দেশের সোনা ব্যবসা। স্থানীয় বাজারের চাহিদার কিছু অংশ পূরণ করছে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা সোনা।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে এক তোলা সোনাও আমদানি হয়নি। সোনা আমদানির অনুমতি চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি মাত্র আবেদনপত্র জমা আছে। যা কিছু রাজস্ব আদায় হয়েছে ব্যাগেজে আনা সোনায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সূত্রে এসব তথ্য  জানা গেছে।

এদিকে আপন জুয়েলার্সের মোট পাঁচটি শাখায় মেরামতের জন্য দেওয়া ১৮২ জন গ্রাহকের মধ্যে ৮৫ জনের সোনা ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৈধ কাগজপত্র, রশিদ থাকলে বাকিদেরকেও ফেরত দেয়া হবে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উত্তরা, সুবাস্তু ইমাম স্কয়ার, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ারের আপন জুয়েলার্সের শোরুমে একযোগে গ্রাহকদের এসব সোনা ফেরত দেয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক দিপা রানী হালদার জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্রাহকদের স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেয়ার জন্য আমরা সহযোগিতা করেছি। আপন জুয়েলার্সের উত্তরা শোরুমে ১৫ জন, সুবাস্তু ইমাম স্কয়ার শাখায় ১৩ জন, গুলশান ডিসিসি মার্কেটে ১৫ জন, মৌচাক ১৯ জন ও সীমান্ত স্কয়ারের শোরুমে ২৩ জনসহ মোট   ৮৫ জন গ্রাহক বৈধ রসিদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাদের স্বর্ণালঙ্কার ফেরত নিয়ে গেছেন। এ সোনার মোট ওজন ২ দশমিক ৩৩ কেজি।

বাকি গ্রাহকদের আবারও ফোন করে আসতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা সাধারণ কোনো গ্রাহকের ক্ষতি চায় না বলে তিনি জানান। দিপা রানী হালদার বলেন, আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে সোনা মেরামতের রসিদ এবং তাদের পরিচয় পরীক্ষা করে সোনা ফেরত দেয়া হচ্ছে। বাকিদের সোনা ফেরতের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শুল্ক গোয়েন্দা সদর দফতর সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৮২ জনের স্বপক্ষে প্রায় সাড়ে ৩ কেজি ফেরতযোগ্য সোনার হিসাব পাওয়া গেছে। এদিকে, আপন জুয়েলার্স থেকে জব্দকৃত সোনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিলদার আহমেদসহ মালিকপক্ষকে আজ মঙ্গলবার কাগজপত্রসহ অধিদপ্তরে হাজির হতে পুনরায় তলব করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন সাড়ে ১৩ মন সোনা ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ডের বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। তাই আজকের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে এসব সোনা ও ডায়মন্ড বাজেয়াপ্ত করা হবে।  গত ১৪ ও ১৫ মে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুল্ক গোয়েন্দারা আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শোরুমে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৩ মন মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করেন। এসবের বাজার দাম আড়াইশ’ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত মালিকপক্ষ এসবের কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে তারা এই সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন।