জলাবদ্ধতায় নাকাল চট্টগ্রাম নগরবাসীর বেহাল অবস্থা !

চট্টগ্রামে এখন থৈথৈ পানি। কোথাও কোমর সমান। কোথাও তারও বেশি। লোকজনের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘূর্ণিঝড় মোরা’র প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী বন্দর নগরী চট্টগ্রামে। ফলে স্থবিরতা নেমে এসেছে জনজীবনে। সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। অন্তত ৪০টি এলাকায় জমে গেছে বৃষ্টির পানি। বাধ্য হয়ে লোকজন নৌকায় চলাচল করছে। কেউবা কোমর সমান ভ্যান গাড়িতে দাঁড়িয়ে বাসায় ফিরছে। শহরের সবক’টি ম্যানহোলে পানি জমে থাকায় চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২২৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোরা যখন চট্টগ্রামে আঘাত হানে সকাল সাড়ে ৬টায়, ঠিক তখনি প্রবল বেগে বৃষ্টি শুরু হয়। যদিও তার আগের রাত থেকেই প্রচুর বৃষ্টিপাতে জলজট সৃষ্টি হয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে। এ ব্যাপারে পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, প্রচুর বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তবে মোরা বড় ধরনের আঘাত হানতে পারেনি এটাই সৌভাগ্য। যাওয়ার আগে প্রবল বৃষ্টি ঝরিয়ে গেছে। আকাশ এখন মেঘলা থাকবে।
সরজমিনে দেখা যায়, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকা ডুবে গেছে। বিশেষ করে বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, আরাকান সড়ক, হালিশহর, নগরীর ষোলশহর, আগ্রাবাদ, চকবাজারসহ অনেক এলাকার মানুষ এখন পানিবন্দি। মোরা চলে যাওয়ার পর নগরীর অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও অফিসে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়নি।
যারা সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছেন তাদের বেশির ভাগই কোমর সমান পানিতে নেমে কর্মস্থলে গেছেন।
চট্টগ্রামের বেসরকারি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা সানজিদা আফরীন বলেন, আমরা সিডিএ আবাসিক এলাকায় থাকি। এখাকার ২৩ নম্বর সড়কে প্রচুর পানি জমে গেছে। পানি সরানোর কোনো উপায় নেই।এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চলে যাওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আংশিক শুরু হলেও এখনো বন্ধ রয়েছে জাহাজ থেকে কন্টেইনার ও পণ্য খালাসের কাজ। বন্দরের অভ্যন্তরের জেটিগুলোতে কোনো জাহাজ না থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ‘মোরা’ আতঙ্কে গত সোমবার দুপুরে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে নোঙর করা ২৬টি জাহাজ বহির্নোঙরে পাঠানো হয়েছিল। এখনো এসব জাহাজকে ভেতরে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।