যেমনটি চলছে এইসব দিন রাত্রী এই অশীতিপর দম্পতির

মানব জমিনের জন্য  মো. জিয়াদুল হক, কাউখালী (পিরোজপুর) থেকে-         নেই কোনো ঘর, নেই কোনো খাবারের ব্যবস্থা। চেহারায় অপুষ্টির ছাপ। কিন্তু মনোবল চাঙ্গা। একসময় পৈতৃক বাড়ি ছিল পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪নং চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের সুবিদপুর এলাকায়। ঐ ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় নাম আছে তার। এমনই এক দম্পতি মো. আজাহার আলী (৯৪) ও আমিরুন্নেছা (৮০)। উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের সিঁড়ির নিচে কখনো কখনো রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রাত হলেই এই দম্পতি একটু আশ্রয় নেয়ার জন্য উপজেলা ভবনের সিঁড়ির নিচে ৬ ফুট প্রস্থ ও  ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের সিঁড়ির নিচে রাত্রি যাপন করেন। সন্তান থেকেও নিঃসন্তান এই দম্পতির ভিটা বাড়ি সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। অসুস্থ আজাহার আলীকে সিঁড়ির নিচে রেখে স্ত্রী আমিরোন সকালে খালি পেটে বেরিয়ে পড়েন দুুমুঠো অন্নের জন্য। অন্যের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই কোনো রকম দিনাতিপাত করছেন। এ দম্পতির বয়স্ক ভাতার কোনো কার্ড নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আজাহারের জন্ম তারিখ ১০ই ডিসেম্বর, ১৯২৩ইং। সরকারি সাহায্য বলতে কোনো কিছুই জোটেনি তাদের কপালে। বয়সের বাড়ে ন্যুব্জ আজাহার আলী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, হায়রে পোড়া কপাল, চেয়ারম্যান মেম্বারদের ভোট দিলেও আমাগোর কোনো কাজ হয় না। গত ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে আইয়্যা মোর ঠ্যাং ভাঙছে। মুই কিছুই পাই নাই। এহনো মোর ঠ্যাং ভাঙা। মুই খাড়াইতে পারি না। স্ত্রী আমিরোন্নেছা বলেন, হুনছি অনেক মাইনষেরে সরকার ঘর দেছে আমরার নাম নেই তালিকায়। উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আঃ লতিফ খসরু বলেন, এই দম্পতি দীর্ঘদিন যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই দম্পতিদের স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। তাদের এই জীবন যাপন আমাকে খুব ব্যথিত করে। তাই আজ এই দম্পতির জন্য একমাসের খাবার (চাল, আনুষঙ্গিক সদায়) ও ইফতার সামগ্রী তুলে দিলাম। আমি ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়েছি, হয়তো কেউ বড় উদ্যোগ নিবেন। সমাজের ভিত্তবান ও সরকারকে এই দম্পতিকে পুনর্বাসন করার জন্য আহ্বান জানান।