ফরহাদ মজহারের কথিত সেই বান্ধবী অর্চনা জবানবন্দি দিলেন

কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের ‘উবিনিগ’ নামক একটি এনজিও রয়েছে। ওই এনজিওতে কর্মরত এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ফরহাদ মজহার। মূলত ওই নারীর মাধ্যমেই অপহরণের নাটক সাজানো হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে টাকা আদায়ের একটি বিষয় ছিল।
ফরহাদ মজহারের অপহরণ রহস্য উদঘাটন করতে মরিয়া হয়ে উঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন অনেকের ফোনে আড়ি পাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর ফরহাদ মজহারের মোবাইল ফোনের কললিস্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাচাই করে। এভাবেই অপহরণের সঙ্গে ওই নারীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়।
ফরহাদ মজহারের কথিত সেই বান্ধবী জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষী হিসেবে তিনি অপহরণ নাটকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংগৃহীত তথ্য প্রমাণের সঙ্গে ওই নারীর দেওয়া তথ্যের মিল রয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সিএমএম আদালতে ওই নারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।           চলতি সপ্তাহের যেকোন দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রকাশ করা হবে। ওই নারীর একজন ঘনিষ্টজনও এই অপহরণ নাটকের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই ঘনিষ্টজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধারের পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ফরহাদ মজহার বলেন, ঘটনার ভোরে তিনি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। এর পরপরই একদল দুর্বৃত্ত তাকে ধরে চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে করে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা তাকে দিয়ে বাসায় ফোন করিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। তবে বিকালে অপহরণকারীরা তাকে একটা স্থানে নামিয়ে দেয়। পরে তিনি এক রিকশাওয়ালার কাছ থেকে জানতে পারেন ওই এলাকাটি খুলনা। এরপর খুলনার একটি হোটেলে তিনি ৫ শ’ টাকা ভাঙ্গিয়ে রাতে খাবার খান। পরে তিনি বাসের টিকিট কেটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাসে ওঠার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর যশোর থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে মোবাইল ফোনের চার্জার, একটি পোশাক ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা ছিল। এ থেকে অনুমান করা যায়, তার বাসা থেকে বের হওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটাই এখন পরিস্কার হতে চলেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই রাতে যশোরের অভয়নগরে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধারের পর ৪ জুলাই সকালে তাকে নেওয়া হয় আদাবর থানায়। সেখান থেকে তেজগাঁওয়ের ডিসি কার্যালয়ে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাকে নেওয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে। ফরহাদ মজহারের কথিত অপহরণ মামলার তদন্ত ভারও ডিবিকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার জবানবন্দি নেওয়ার জন্য সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাকে নিজের জিম্মায় দেওয়া হয়। ৩ জুলাই রাতে ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এর আগে তিনি জিডি করেছিলেন।