খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তথ্য পেতে সোহেলকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের জেরা

ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তথ্য পেতে শীর্ষ জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজকে আজ দিনভর যৌথভাবে জেরা করেছে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) ও কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) ছয় সদস্য। পাশাপাশি ভারতে জঙ্গিদের ব্যাপারেও কিছু তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। তবে সোহেল তাদের কি বলেছে সে ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
এছাড়া আজ মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কাউন্টার টেররিজমের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। দুই দেশের কর্মকর্তারা জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য আদান-প্রদান করেছেন।
আদালতের অনুমতি না থাকায় সোহেল মাহফুজকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের জেরার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি পুলিশ কর্মকর্তারা।
একজন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে। দুই দেশ একসঙ্গে জঙ্গি মোবাবেলায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। কারণ জঙ্গি ইস্যু এখন আর কোনো দেশের একক সমস্যা নয়। বৈশ্বিক এই সমস্যা একসঙ্গেই মোকাবেলা করতে হবে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় সহজেই এক দেশের জঙ্গি অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। ফলে একসঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান না চালালে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।’
এর আগে গত সোমবার এনআইএ’র তিন সদস্যের একটি টিম ঢাকায় পৌঁছেই সোজা চলে যায় পুলিশ সদরে। এসটিএফ’র তিন সদস্য গত চার দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। সেখানে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভারতের এই দুটি গ্রুপ একসঙ্গে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে। বৈঠকে একটি তালিকাও আদান-প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ নিয়েই সোহেল মাহফুজ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বানানোর সময় দুইজন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সোহেল মাহফুজ হলেন ফেরারি আসামি। মামলার অভিযোগপত্রে তার নাম রয়েছে। ভারতে সোহেল মাহফুজ হাতকাটা নাসিরুল্লাহ নামে পরিচিত ছিলেন। তাকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের কাছে মোস্ট ওয়ানটেড জঙ্গি নেতা সোহেল মাহফুজ।
প্রসঙ্গত, গত ৭ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে সোহেল মাহফুজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম গত শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ২০০৬ সালে বাংলাদেশে জঙ্গিদের ধরপাকড় শুরু হলে সোহেল মাহফুজ ভারতে পালিয়ে যান।
সেখানকার পুলিশ ২০১৪ সালে পুরস্কার ঘোষণার পর তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। বেশির ভাগ সময় তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সোহেল মাহফুজ ভারতে জেএমবির আমির ছিলেন বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।