সালাম না দেওয়ায় হল থেকে বের করে দিল ছাত্রলীগ

সালাম না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের দুইজন আবাসিক ছাত্রকে পিটিয়ে হল ছাড়া করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই হলটির দায়িত্বরত প্রাধ্যক্ষের কাছে!গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে এসএম হলে এ ঘটনা ঘটে। এসএম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল পক্ষের নেতাকর্মীরা এই কাজ করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মারধরের শিকার ওই ছাত্ররা হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শামিমুর রহমার ও একই বর্ষের বাংলা বিভাগের আতিকুর রহমান।

হলের একাধিক শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার এসএম হলের অতিথি কক্ষ বসে ছিলেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী। এ সময় ওই কক্ষের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের সালাম না দেওয়ার কারণে শামিমুর ও আতিকুরসহ তিনজন ছাত্রকে ১৭৭ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। তাঁদের সেখানে ডেকে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদিক খান। সেখানে প্রবেশের সময় শামিমুর ও আতিকুর সালাম দিয়ে প্রবেশ না করলে তাঁদের থাপ্পর দেন সাদিক খান। পরে ওই দুই ছাত্রকে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করেন পরিসংখ্যান বিভাগের তানভীর ও সৌরভ, জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের তাহের, ফারসি বিভাগের সফিউল্লাহ, সংস্কৃত বিভাগের সোহরাব। মারধরকারী সবাই তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কর্মী। ছাত্রদের কক্ষে ঢুকিয়ে পেটানোর বিষয়ে হলের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের কাছ থেকে তাঁর কর্মীরা অনুমতি নিয়েছিলেন।ছাত্রদের মারধরের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাহসান গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষের সব শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শামিমুর রহমার ও আতিকুরকে স্থায়ীভাবে হল থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তাহসান আহমেদ। পরে হলের সিনিয়ররা তাহসানকে বুঝিয়ে ছাত্রদের হলে ফিরিয়ে আনলেও আজ বুধবার আবার তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ‘তাঁরা (ছাত্ররা) হলের বড় ভাইদের সালাম দেইনি। তাই তাঁদের মারছিলেন সিনিয়র ভাইয়েরা। পরে ওই জুনিয়ররা সিনিয়রদের গায়ে হাত তুলতে যান। এ কারণে তাঁদের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এখন সাভারে আছে। এটা তাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

এসএম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।