বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবেঃপ্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সরকার ৩ মাস পর্যন্ত সবধরনের সহায়তা দেবে। এক কোটি দরিদ্র মানুষকে ১০ টাকা কেজিতে চাল দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাদের ভাগ্যের উন্নয়নে ও পুনর্বাসনে আমি আন্তরিকভাবে সক্রিয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মত আমিও জনগণের জন্য আমার জীবনকে উত্সর্গ করার অঙ্গীকার করেছি। আওয়ামী লীগ দুঃখী মানুষের দল। তাই আপনাদের পাশে বন্ধু হিসেবে, স্বজন হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গতকাল রবিবার সকালে দিনাজপুর শহরে জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ২১টি জেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দুর্ভোগ, কষ্ট লাঘবে আমরা ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। বন্যাদুর্গত এলাকায় গৃহহারা মানুষকে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। যে এলাকায় খাস জমি নেই সেখানে সরকার জমি কিনে গৃহ নির্মাণ করবে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার পর পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিত্সা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে তা আবার সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে সে জন্য বিদেশ থেকে খাদ্য শস্য আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের জন্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। বীজ, কীটনাশক, সারসহ অন্যান্য উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যাপ্ত কৃষি ঋণ প্রদান করা হবে। যারা পূর্বে ঋণ নিয়েছিল তাদেরকেও নতুন করে ঋণ দেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী এনজিও’র উদ্দেশে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপর জুলুম করবেন না। তাদের উপর কোনো ধরনের অত্যাচার নির্যাতন করার চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবার মত আমিও জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমার জীবন উত্সর্গ করার অঙ্গীকার করেছি। আমি বাবা-মা, ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন হারিয়ে আজ নিঃস্ব স্বজনহারা। আপনারাই আমার শক্তি-সাহস আর স্বজন। তাই আপনাদের দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট দুর্ভোগে আমি সব সময় পাশে রয়েছি।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিরল উপজেলার ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। দুটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ১০ হাজার দুর্গত মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ স্থানীয় এমপি ইকবালুর রহিম ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়, প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম, দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার সিদ্দিক গজনবী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকালে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গা রাণী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। তিনি বন্যায় নিহত শিশুসহ অন্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। সবাইকে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশে যেন খাদ্য ঘাটতি না হয় সেজন্য চাল আমদানির উপর ২৮ ভাগ ট্যাক্স কমিয়ে ২ ভাগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫ লাখ টন খাদ্য আমদানি করা হয়েছে। কাজেই কোনো সংকট নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ১৯৮১ সাল থেকে কুড়িগ্রামের প্রতিটি উপজেলায়, ইউনিয়নে ঘুরেছি। মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখেছি। তখন এ অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ, মঙ্গা লেগে থাকত। সরকারে না থেকেও তখন মানুষের পাশে ছিলাম। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এ জেলার জন্য অনেক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়েছি। এখন আর মঙ্গা নেই।কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাফর আলী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম মোজাম্মেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, জাহাঙ্গির কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সফুরা খাতুন এমপি, রুহুল আমিন এমপি, এ কে এম মোস্তাফিজার রহমান এমপি, মোতাহার হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম মঞ্জু মণ্ডল, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান।