হাজারো মামুষের মিছিলে,শোকে, কান্নায় নায়ক রাজ সিক্ত হলেন

সারাদেশের মানুষের স্রোত যেন আছড়ে পড়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শুধু রাজধানীর নন দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসেছিল নায়ক রাজকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। হাতে গোলাপ ফুল নিয়ে সবাই বললেন, ‘ভালোবাসি। তোমার মৃত্যু নেই।’ গতকাল মঙ্গলবার শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এফডিসি, শহীদ মিনার— সবখানেই হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন নায়ক রাজ রাজ্জাক।

চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের প্রথম নায়িকা সুচন্দা বললেন, ‘রূপালি পর্দায় এসেছিলেন নায়ক হয়ে। নায়ক হয়েই কাটিয়েছেন সারা জীবন। তার চলে যাওয়াটাও নায়কের মতোই। বাস্তব জীবনেও তিনি মহানায়ক ছিলেন। তিনি কখনো কারো কাছে ছোট হননি।’আজ বুধবার চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন নায়ক রাজ। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শেষবারের মতো তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বাসভবনে, নায়ক রাজের প্রিয়প্রাঙ্গণ এফডিসিতে। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। গতকালই এফডিসি ও গুলশান আজাদ মসজিদে রাজ্জাকের দুই দফা জানাজা সম্পন্ন হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ বুধবার ভোরে রাজ্জাকের মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পি দেশে ফেরার পর সকাল ১০টায় তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। এর আগ পর্যন্ত তার মরদেহ রাখা হবে ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক।গতকাল মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ শেষ বারের মতো নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের বাসভবন ‘লক্ষ্মীকুঞ্জ’তে। তার মরদেহ পৌঁছাতেই স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠে চারপাশ। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখান থেকে তার মরদেহ বেলা ১১টায় নিয়ে আসা হয় এফডিসিতে। শিল্পী-কলাকুশলীরা চোখের জলে বিদায় জানান তাকে।এফডিসিতে নায়ক রাজকে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ। সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার, অভিনেতা আলমগীর, চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী, সুচন্দা, ববিতা, চম্পা, শাবনূর, চিত্রনায়ক শাকিব খান, ফেরদৌস, আমিন খান, রুবেল, আহমেদ শরিফ, ওমর সানি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি অভিনেতা মিশা সওদাগর, চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর, চলচ্চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ প্রমুখ।সংগঠনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানায় তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, চলচ্চিত্র পরিবার, সিনেম্যাক্স মুভি পরিবার, আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগ, বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, সিনে স্থির চিত্রগ্রাহক সমিতি, জাসাসসহ বিভিন্ন সংগঠন। এ সময় রাজ্জাকের বড় ছেলে অভিনেতা বাপ্পারাজ বলেন, ‘আমার আব্বা সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’এফডিসি থেকে মাত্র ৪০ মিনিটের জন্য সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে আসা হয় রাজ্জাকের মরদেহ। তবে এর এক ঘণ্টা আগে থেকেই সেখানে আসতে শুরু করেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় এ নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হন প্রিয় এ অভিনেতা। সেখানে তার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। খোলা হয় শোক বই। পুরোটা সময় রাজ্জাকের মরদেহের পাশে ছিলেন দুই ছেলে বাপ্পরাজ ও সম্রাট, চিত্রনায়ক জাভেদ ও শাকিব খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।এখানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। ব্যক্তি পর্যায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিএনপির পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিটিভির পরিচালক নাসির আহমেদসহ আরো অনেকে।