চট্টগ্রামে নদীতে নারীর দেহ, ইপিজেডে মাথা!

একটি শরীরহীন মস্তক মিলেছে ইপিজেড থানার এস আলম-বি আলম গলি নামক জায়গার একটি নালায়। আর আরেকটি মস্তকহীন দেহ মিলেছে তার থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরের কর্ণফুলী নদীর ৯ নম্বর ঘাটে। পুলিশ মস্তক ও দেহটি একজন তরুণীর ধারণা করলেও এখনও মস্তক আর দেহটি একইজনের কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত না।

শনিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে ইপিজেড থানা পুলিশ মস্তক ও দেহটি উদ্ধার করে।

ইপিজেড থানার পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বানৌজা ঈসা খাঁস্থ নৌবাহিনীর দুইটি জাহাজের মাঝখানে একটি মাথা ও হাত পা বিহীন লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখা গেলে নৌবাহিনীর সহায়তায় তা উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিনে সন্ধ্যা দিকে টহল গাড়ির অফিসার এস আই শাহ আলম ও টিটু জানতে পারে নারিকেলতলাস্থ এস আলম গলির একটি খালে প্লাসেটিকের ব্যাগে গলিত অবস্থায় দেহ বিহীন একটি মাথা দেখতে পায় এলাকাবাসি। পরে ইপিজেড থানার অফিসার জাহেদ উল্লাহ জামান ও এস আই নাসিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকবাসীর সহায়তায় দেহ বিহীন মাথাটি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথক দুটি জায়গা থেকে আমরা মস্তকহীন শরীর ও শরীরহীন মস্তক উদ্ধার করেছি। আমরা ধারণা করছি দুটি অংশই একইজনের। মস্তকটি কিছুটা বিকৃত। তবে কানে দুল দেখে আমরা ধারণা করছি এটি কোনো তরুণীর। আর দুটি অংশ একজনের কিনা তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। তবে অজ্ঞাত এই তরুণীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা নিজেরা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছি।’

এব্যাপারে ইপিজেড থানার সেকেন্ড অফিসার জাহেদ উল্লাহ জামান জানায়, ইপিজেড থানাধীন নৌবাহিনীর ঈসা খাঁস্থ কর্ণফুলী নদীতে একটি মাথা বিহীন লাশের খোঁজ পাওয়া গেলে নৌবাহিনীর সহায়তায় তা উদ্ধার করে থানায় আনার পরপরই সন্ধ্যা নাগাদ আমাদের থানাধীন নারিকেলতলাস্থ একটি খাল থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভাসমান দেহবিহীন মাথা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা খন্ডিত মাথা ও দেহটি একই নারীর বলে ধারনা করা হচ্ছে এবং এ নারীকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যার পর হয়তো দুবৃর্ত্তরা দুটি অংশ দুই জায়গায় ফেলে দিয়েছে।

তাই পরিক্ষা নিরীক্ষার জন্য আমরা হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলে বুঝতে পারবো পৃথকভাবে পাওয়া খণ্ডিত দেহের অংশ একজনের কিনা।