‘বাইরের কারো উস্কানিতে পা দেবেন না’-প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাইরের কারো উসকানিতে শিল্প-কারখানায় যেন বিশৃঙ্খলা না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মক্ষেত্রে নিহত ও পঙ্গু শ্রমিকদের পরিবারের সদসদ্যদের মাঝে তৈরি পোশাক শিল্পের তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির জন্য কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে দায়ী করে আরো বলেন, ‘শ্রমিক রাজনীতির নামে কিছু এনজিও করে, আবার তারা শ্রমিক নেতাও সেজে যায়। শ্রমিকদের কত টাকা বেতন, কি পেল, তাতে ভাগ খাওয়ার জন্য নানাভাবে ঘোট পাকায়। এদের হাত থেকে সব সময় দূরে থাকবেন, আপনাদের যা সমস্যা হবে আমরা তো দেখবই। সাম্প্রতিক সময়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিহত এবং আহত শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতার জন্য সকল পোশাক প্রস্তুতকারক এবং রপ্তানিকারক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কল্যাণ তহবিলের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই সকল গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি।’ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সদস্য ছাড়া যে সকল প্রতিষ্ঠান পোশাক রপ্তানি করে, তাদেরকেও কেন্দ্রীয় তহবিলের আওতায় আনতে হবে। রপ্তানি করতে হলে তাদেরকে বিজিএমইএ অথবা বিকেএমইএ’র সদস্য হতে হবে। বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিচ্ছি।’

প্রথমবারের মতো শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বজনিত কারণে ২৩৪ জন শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়। রপ্তানি মূল্যের ০ দশমিক ০ শূন্য ৩ শতাংশ হারে অর্থ বিজেএমইএ এবং বিকেএমইএ’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী উদ্যাক্তাদের ধন্যবাদ জানান। একজন গার্মেন্টস শ্রমিক কোনো দুর্ঘটনায় নিহত বা গুরুতর আহত হলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে এই তহবিল থেকে অনুদান পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রের বাইরে যে কোনো মৃত্যুর জন্য তার পরিবারের স্বজনরা ২ লাখ টাকা পাবেন।

শেখ হাসিনা শ্রমিক-মালিকদের কল্যাণে ও শিল্প বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এবং বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। এফবিসিসিআই সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফরোজা খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।