চট্টগ্রামে অনেকে ছিঁচকে চোর থেকে ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি

দক্ষিণ চট্টগ্রামের এক সময়ের ছিঁচকে দুর্বৃত্ত। এখন ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছে। ছিঁচকে দুর্বৃত্ত থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া এসব মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সাম্প্রতিক যুক্ত হয়েছে কিছু চিহ্নিত জনপ্রতিনিধিও। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সাঁড়াশি অভিযানে গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। ইয়াবা পাচারকারী ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের বহু ব্যবসায়ী গ্রেফতারও হয়েছে। কিন্তু এর মূল কারবারিদের অনেকেই রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ইয়াবা চালান ধরা পড়ার পর ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বহু দুর্ধর্ষ পাচারকারী ও সহযোগীর নাম উঠে আসলেও চার্জশিটে এদের অনেকের নাম বাদ পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসা করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হওয়া অনেকে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাসাদসম বাড়ি-ঘর বানিয়েছে। কেউ কৃষি, পরিবহন, মাছের ঘের, পোল্ট্রিসহ নানা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ইমেজ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। সূত্র জানায়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে চট্টগ্রামের উপকূল, বিশেষ করে বড় রুট আনোয়ারা উপকূল দিয়ে ইয়াবা আসা যখন বন্ধ প্রায় সে সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিম্নপর্যায়ের কতিপয় সদস্যের ইয়াবাসহ গ্রেফতারের ঘটনাটি বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ-আতঙ্ক বৃদ্ধি করেছে। এদিকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যেসব জনপ্রতিনিধিদের নাম গোয়েন্দা সূত্র ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তালিকাভুক্ত করেছে, সেই তালিকাটি এখন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে গেছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম র্যাব-৭ এর অপারেশন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি র্যাবের একটি অভিযানে ইয়াবার বড় চালানসহ কয়েক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে এই চালানের অন্যতম হোতা হিসেবে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়ার হাসান মাঝি ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে। সূত্রগুলো হতাশা ব্যক্ত করে জানায়, পতেঙ্গা থানার মামলায় এই ঘটনার জন্য আদালতে যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে তাতে হাসান মাঝি ও তার সহযোগীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ইয়াবা পাচারের অভিযোগে আনোয়ারা এলাকার সবুর মেম্বার, জাহাঙ্গীর ও জালাল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। মজিদ নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি জেল খেটে বেরিয়ে এসেছে। সে এখনো ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে বলে অভিযোগ আছে।

হাসান মাঝি সম্পর্কে স্থানীয় সূত্র জানায়, এই ব্যক্তি এক সময় সমুদ্র উপকূলে নৌকার শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। পরে সে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। এরই মধ্যে সে ইয়াবা ব্যবসা করে বিপুল অর্থকড়ির মালিক হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আনোয়ারার জাফর নামে এক প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছিল। তার মৃত্যুর পরও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি। তবে সাম্প্রতিক কিছু রায়ে ইয়াবা পাচারে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তির কারাদণ্ড হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযানে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমার কেন্দ্রীক ইয়াবা পাচারকারীরা ঘনঘন রুট পরিবর্তন করছে। ইয়াবা পাচারের কৌশলও তারা বদলাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহীর গোদাবাড়ী সীমান্ত এলাকার ভারত থেকে দেশে ইয়াবা আসছে। কয়েকটি চালান ধরার পর দেখা গেছে তারা আখ ও পিঁয়াজের ভেতরে ইয়াবা নিয়ে আসার কৌশল নিয়েছে।ইত্তেফাক