আনন্দ বাজারের দোকানীর লুটের টাকায় ছাত্রলীগের ভুরিভোজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হলের পাশের আনন্দবাজারে ডাকাতি করার অভিযোগ উঠেছে। তারা টাকা না দিয়েই আটটি দোকানের চাল, ডাল, তেল, ছাগল, মুরগিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যায়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই বাজারের দোকানদারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই সব জিনিসপত্র রান্না করে বেশ মজা করে রাতের ভূরিভোজ করে।

রোববার আনন্দবাজারে গেলে একাধিক দোকানি জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অমর একুশে হলের গেস্ট রুম থেকে হল ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মী আনন্দবাজারে যান। সেখানে চারটি মুদি দোকান, তিনটি মুরগির  দোকান ও একটি গরু-ছাগলের দোকান থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ডাকাতি করে। পরে ওই সব জিনিসপত্র দিয়ে তারা রান্না করে রাতের খাবার খায়।

হাফেজ শাহাদত নামের এক মুদি দোকানদার দাবি করেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁর কাছে ছয় হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর দোকানের চাল, ডালসহ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার মালামাল জোর করে নিয়ে যায়।

শেখ সেলিম নামের এক মুদি দোকানদার বলেন, ‘আমার দোকান থেকে চাল, ডাল, তেলসহ যার যার মতো লুটপাট করে নিয়ে গেছে। তারা ২০ থেকে ৩০ জন এসে প্রায় আড়াই হাজার টাকার মতো জিনিসপাতি নিয়ে যায়।’

খোকন নামের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘অমর একুশে হল ছাত্রলীগের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন পোলাপান এসে আমার দোকান থেকে তিনটি মুরগি ও আমার পাশের দোকান থেকে সাত-আটটা মুরগি নিয়ে গেছে। পাশে রহিমের দোকান থেকে তারা একটা ছাগলও ধরে নিয়ে যায়।’

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা লতিফের দোকান থেকে ১৪ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ওই দোকানদার রোববার সকালে দোকান খুললেও বিকেল থেকে বন্ধ করে রাখেন।

এই ঘটনায় আনন্দবাজারের কোনো দোকানদার অমর একুশে হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেননি বলে জানান দোকান মালিকেরা। তারা বলেন, আজ অভিযোগ করলে কাল থেকে আর দোকান চালাতে দিবে না। তাই তারা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অমর একুশে হল ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জব্বারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসান পিয়াল প্রথমে বিষয়টি না জানার কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, ‘আমি তখন হলে ছিলাম না। তবে ঘটনাটি সামান্য শুনেছিলাম। কিন্তু কোনো দোকান মালিক আমাদের কাছে অভিযোগ করেননি।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এম আমজাদ আলীকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান একটি টিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা ঘটনা শুনে আনন্দবাজারে আমাদের একটা টিম পাঠিয়েছিলাম। সেখানে কিছু ছাত্র গিয়ে হাঁস-মুরগি নিয়ে আসে। কিন্তু তারা টাকা দেয়নি। তবে সেটি নিজেদের মধ্যে ঠিক হয়ে যাওয়ায় আমরা কোনো পদক্ষেপ নেইনি।এনটিভি  অনলাইন