পুলিশের লাঠিচার্জ, ও ডিম ভাঙ্গার মাধ্যমে শেষ হল ৩ টাকায় ডিম কেনা

তিন টাকা করে একটি ডিম। অর্থাৎ এক হালির দাম মাত্র ১২ টাকা। যা বাজার দরের অর্ধেকেরও কম। আর জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৯০ টি করে ডিম কিনতে পারবেন।

গত কয়েকদিন ধরেই ফেইসবুক, টেলিভিশন, খবরের কাগজ আর মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে সুস্বাস্থ্যের জন্য ডিম নিয়ে একটি মেলার এমনই প্রচারণা ছিল।

কিন্তু তা শেষ হয়েছে পুলিশের লাঠি চার্জ দিয়ে।

বিশ্ব ডিম দিবসকে ঘিরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এই উদ্যোগটি নিয়ে এখন আয়োজকরাও রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থায় পরেছেন।

ডিম নিয়ে ঠিক কী হল ঢাকায়? রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন প্রাঙ্গণে মেলাটিতে গিয়ে দেখা গেলো শুধু মানুষ আর মানুষ কিন্তু কারো হাতে ডিম নেই।

হঠাৎ করে শুরু হল হুলুস্থুল, ঠেলাঠেলি। সেই সাথে ভাঙল কয়েক ডজন ডিম। এরপরই পুলিশের বাঁশি বেজে উঠলো। তারপর এক পশলা লাঠিচার্জ।

বাঁশি বাজিয়ে আধাঘণ্টার মধ্যেই খালি করে দেয়া হল মেলা প্রাঙ্গণ।

সেই কোন ভোরবেলা থেকে ডিম কিনবেন বলে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের একজন ছাত্র মোহাম্মদ সোহেল।

তিনি বলছেন, “এই দেখেন আমি মাত্র একটা ডিম পেয়েছি। ভাবলাম ছুটির দিন একটু মজা করে ঘুরবো। আবার যাবার সময় সাথে করে ডিমও নিয়ে যাবো। কিন্তু তার বদলে উল্টো হয়রানির শিকার হলাম।”

পাশেই দাড়িয়ে ফোড়ন কাটছিলেন আর হাসছিলেন উত্তরার একজন বাসিন্দা ফারজানা শিরিন। তিনি বলছিলেন, “উনি তো তাও একটা পেয়েছেন। আমিতো একটাও পাইনি। এর চেয়ে ভালো হতো যদি ছুটির দিনটা বরং ঘুমিয়েই কাটাতাম।”

কয়েক ডজন ডিম কিনতে এসে লাঠিপেটা কেন হতে হল সেই প্রশ্ন তুলে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পরেন অনেকে। এত ডিম কোথায় গেলো সেই প্রশ্নও উঠলো।

অনেকেই বলছিলেন তারা এসেছিলেন শুধুমাত্র কৌতূহলী হয়ে। কিন্তু তার বদলে ভালো নাটক দেখে গেলেন।

বিশ্ব ডিম দিবসকে ঘিরে এই মেলার আয়োজন করেছিলো প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল।

সকাল থেকে আয়োজন করা হয় রঙিন শোভাযাত্রা এবং ডিম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান। কিন্তু মেলায় আসা লোকজনের তা নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাদের আগ্রহ ছিল বাজার দরের অর্ধেকের কম দামে ডিম কেনা।

আয়োজকদের খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো হুলুস্থুল শুরু হওয়ার পর সরকারি লোকজন সেখান থেকে চলে গেছেন।মেলার বেসরকারি অংশীদার বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের আহবায়ক মশিউর রহমান বলছেন, “আমরা এক লাখের মতো ডিম এনেছিলাম। কিন্তু আয়োজনের থেকে মানুষজন অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় আমরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি হবে মনে করে ডিম বিতরণ বন্ধ করে দেই। দুয়েকদিন পরে আবার ডিম বিতরণ করা হবে।”

তিনি বলছেন, “বাংলাদেশে গড়ে জনপ্রতি বছরে ৬০ টি করে ডিম খান। কেউ হয়ত কম বা কেউ বেশি খান। কেউ হয়ত একদমই খান না। সেই হিসেবে গড়ে এমনটাই দাড়ায়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ডিমের গুনাগুণ মানুষজনকে জানানো এবং তাদের সস্তায় ডিম বিতরণ করা।”

কিন্তু সস্তায় ডিম কেনা তো হলই না বরং শেষমেশ হতাশ হয়েই বাড়ি যেতে হল মেলায় আসা মানুষজনকে।বিবিসি