দুদক বড় বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারেনি’প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আলোচকরা

নির্বাচন কমিশনে () জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখবে দুদক। সেখানে দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার দুদকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনে সকল প্রার্থীকে অবশ্যই সঠিক সম্পদের হিসাব দিতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা দুদকের দুই কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে কমিশনের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কমিশনের ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। পরে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় ‘সবাই মিলে গড়ব, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে উপলক্ষ্য করে শপথ গ্রহণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতিবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরাস উদ্দিন বলেন, দুদক বড় বড় দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারেনি। সমাজের বড় একটি অংশ দুর্নীতিবাজ হলে একা দুদকের পক্ষে সেটা দমন করাও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন বা প্রতিরোধে একটি নিয়ামক পরিমণ্ডল দরকার, শুধু মামলা করে আর বিচার-আচার করে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে না, দুর্নীতি দমন করতে হলে বড় ধরনের নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিটি দেশেই নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আইন বিভাগ রয়েছে-পাশাপাশি রয়েছে শক্তিশালী গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ। আমাদের দেশেও গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ রয়েছে কিন্তু তারাও বিভক্ত। তবে দুর্নীতির ক্ষেত্রে যদি সুশীল সমাজ ও মিডিয়া সোচ্চার হয় তবে অবশ্যই দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি হবে।