প্রায় ১৫২ বছর পর সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ দেখলো বিশ্ববাসী

পৃথিবীর মানুষ ১৫২ বছর পর এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হলো। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার আকাশে ওঠা চাঁদ তিনটি চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছিল। চাঁদের নাম ছিল ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ বা বিশাল নীল রক্তাভ চাঁদ। খবর বিবিসি
একই মাসে দ্বিতীয়বার পূর্ণিমা হওয়ায় গতকাল চাদের একটি নাম ব্লু মুন। আবার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসায় চাঁদ সুপার মুন হয় যার উজ্জ্বলতা বেশ খানিকটা বেশি। স্বাভাবিক অবস্থা থেকে চাঁদ প্রায় ৭ ভাগ পর্যন্ত বেশি বড় আর ১৪ থেকে ১৫ ভাগ পর্যন্ত বেশি উজ্জ্বল ছিল। আর সেই সঙ্গে সূর্য, পৃথিবী আর চাঁদ একই সরলরেখায় চলে আসায় হয় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। সর্বশেষ এরকম একই সঙ্গে ‘সুপার ব্লু ব্লাড মুন’ হয়েছিল ১৮৬৬ সালের ৩১শে মার্চ। ফলে প্রায় দেড়শ বছরের বেশি সময় পর আবার বিশ্ববাসী এরকম ঘটনার সাক্ষী হলো। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অস্ট্রোনোমিকাল ট্রাইফ্যাক্টা’। বিশ্বের যেসব দেশ থেকে এটি দেখা যায় তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। আরো দেখা যায় এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন স্থান, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড থেকেও।
মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকার গ্রিন মডেল টাউন মান্ডায় পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প স্থাপন করে অনুসন্ধিত্সু চক্র। যেখানে পর্যবেক্ষণ ও ছবি তোলার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্বলিত টেলিস্কোপ, ফটোমিটার ছিল। আরেকটি সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি পূর্বাচলের স্বর্ণালি আবাসিক এলাকায় টেলিস্কোপে ও দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে চন্দ্রগ্রহণ দেখার ব্যবস্থা করে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের জাদুঘরে ও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।