জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মায়ের ডাক’ ব্যানার নিয়ে হাজিরঃ গুম হওয়া ৯০ পরিবারের স্বজন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো মা। আপনি কি আমাদের কান্না শুনতে পান না?এ কথা তাঁদেরই একজনের।বাবার জন্য সন্তান কাঁদছে, সন্তানের জন্য কাঁদছে মা। স্বামীর জন্য স্ত্রী কাঁদছে, ভাইয়ের জন্য ভাই। কারো আপনজন কয়েক বছর আগে কারো বা হারিয়েছে কয়েক মাস হলো। নিখোঁজ মানুষগুলোর জন্য পরিবারের সদস্যদের শুধু কান্না আর কান্না। এ ছাড়া আর যেনো কোনো উপায় নেই তাদের।তাই আপনি আমার নিখোঁজ ভাইকে খুঁজে দিন। আপনার মানবতা সারা বিশ্বে। আপনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে আজ আমি কাঁদতেও ভুলে গেছি।’ এসব কথা বলছিলেন রেহেনা বানু মুন্নী। ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পল্লবীর একটি বাসা থেকে প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে এক দল ব্যক্তি ধরে নিয়ে যায় সেলিম রেজা পিন্টুকে। মুন্নী গুম হওয়া পিন্টুর বড় বোন।গত ১০ বছরে গুম হওয়া ৯০ ব্যক্তির পরিবার গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মায়ের ডাক’ ব্যানার নিয়ে হাজির হয়। তারা সংবাদ সম্মেলন করে গুম হওয়া তাদের পরিবারের স্বজনদের ফিরিয়ে দেয়ার আকুতি জানায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এক রাতে রাজধানীর তেজগাঁও থানার শাহীনবাগের বাসিন্দা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনকে র্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যায়। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘নিখোঁজ এই ব্যক্তিদের স্বজনদের অভিযোগ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে হলেও র্যাব কিংবা পুলিশের কর্মকর্তারা বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। র্যাবের বিরুদ্ধে আমরা কোন মামলাও দায়ের করতে পারিনি। উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে রীট করা হলেও তা খুব ধীর গতিতে এগুচ্ছে।’

‘পুলিশ আংকেল, পুলিশ আংকেল, প্লিজ আমার পাপাকে ফিরিয়ে দাও’, রিদি হোসেন নামে এক শিশু যখন এসব কথা বলছিল, তার দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তার বাবা পারভেজ হোসেনকে সুমনের সঙ্গে ধরে নিয়ে যায় র্যাব। এরপর থেকে বাবার অপেক্ষায় এই শিশুটি কাঁদছে। পারভেজের এক বছরের মেয়ে এখন পাঁচ বছরের। কথাও বলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে এসে রিদি আরো বলে, ‘পাপা আমি বড় হচ্ছি। আমার সাথে খেলবে না? ফিরে এসো পাপা। পাপাকে ফিরিয়ে দাও।’

এই সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান উপস্থিত থাকলেও কোন বক্তব্য দেননি। তবে তিনি তার নিখোঁজ বাবার একটি ছবি বুকে আগলে ধরে রেখেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল হাকিম লালা।