মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে আটকঃপুলিশী বাধায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর পল্টন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটের সামনে বিএনপির একটি বিভোক্ষ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এনাম আহমেদ, জুয়েল খানসহ বিএনপি ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আটক করা হয় বাংলা টিভির রিপোর্টার আরমান কায়েস ও তার ক্যামেরাম্যানকেও। এদিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানসহ ছয়/সাতজন পুলিশ সদস্পলিশেএকটিগাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
 জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলটি মতিঝিলের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশের অবস্থানের কারণে স্থান পরিবর্তন করে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।
মিছিলের স্থান পরিবর্তনের কারণে বায়তুল মোকাররমে নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ার সময় পান মাত্র ২০ মিনিট। দুপুর ১টা ৫০মিনিটের দিকে শুরু হয় বিক্ষোভ মিছিল। মিছিলটি দৈনিক বাংলা অভিমুখে কিছুদূর যেতেই পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকে ইট-পাটকেল। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের মতিঝিল জোনের এডিসি শিবলী নোমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। বিক্ষোভকারীরা সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলাকালে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায় পুরানা পল্টন সড়কে। এসময় ছাত্রদলের একজন কর্মী রাস্তায় পড়ে গেলে পুলিশের এক অফিসার তার মাথায় পিস্তল ধরে শুইয়ে রাখে। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে।
এছাড়া সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলা টিভির রিপোর্টার আরমান কায়েস ও তার ক্যামেরাম্যানকেও আটক করে পুলিশ। মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল,ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রাশিদ হাবিব, যুবদলেরসহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, মীর নেওয়াজ আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহ সভাপতি আতিক আল হাসান মিন্টু, আলমগীর হাসান সোহান, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এদিকে পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী নোমান জানান, আটক সাংবাদিকদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।