নানিয়ারচরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা দুবৃর্ত্তের গুলিতে নিহত

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা দুবৃর্ত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গুলিতে আহত হয়েছেন রূপন চাকমা নামে চেয়ারম্যানের সহকারী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ সকালে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার সময় দুবৃর্ত্তরা তাকে লক্ষ্য করে ব্রাশ ফায়ার করলে তিনি নিহত হন। শক্তিমান চাকমা সংস্কারপন্থি নামে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের শীর্ষ নেতা ছিলেন।
একজন সহকারী রূপন চাকমাকে নিয়ে মোটর সাইকেলে করে বাজার থেকে সকালে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন।এসময় পরিষদের সামনে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুবৃর্ত্তরা এলোপাথাড়ি গুলি করে পালাতে থাকে। গোলাগুলির শব্দ পেয়ে নানিয়ারচর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তখন তারা দেখতে পায় সাদা পোষাকের তিন সন্ত্রাসী দৌড়াচ্ছে। পুলিশ সন্ত্রাসীদের ধরতে ধাওয়া দেয় এবং এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ করে। কিন্তু দুরত্ব বেশী থাকার কারণে সন্ত্রাসীদের কেউ হতাহত হয়নি।
বিকেল ৪টায় শক্তিমান চাকমার মরদেহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রহরায় নানিয়ারচর উপজেলা থেকে রাঙ্গামাটি হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়। রাঙ্গামাটির বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ হাসপাতাল মর্গে শক্তিমান চাকমাকে দেখতে যান।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ত্রিদীবি কান্তি দাশ বলেন, এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে হত্যার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করায় নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের একটি শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
রাঙ্গামাটির ডেপুটি সিভিল সার্জেন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দী জানান, ময়না তদন্তের সময় শক্তিমান চাকমার শরীরে কয়েকটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় নানিয়ারচর উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলায় সকল অফিস আদালতের কাজ থমকে গেছে। উপজেলা প্রতিটি  মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পর থেকে উপজেলায় ব্যাপক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নানিয়ারচর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নানিয়ারচর থানা পুলিশ।