চার বছরে কর্মজীবীর প্রকৃত আয় কমেছে আড়াই শতাংশ:সিপিডি

ছবি- ফোকাস বাংলা
মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও তাদের ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ চাকরি তো দূরের কথা, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণেও নেই। চার বছরের ব্যবধানে দেশের কর্মজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। ২০১৩ সালে একজন কর্মজীবী প্রতি মাসে গড়ে ১৪ হাজার ১৫২ টাকা মজুরি পেতেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসে তা কমে ১৩ হাজার ২৫৮ টাকা হয়েছে। প্রকৃত আয় কমেছে আড়াই শতাংশের মতো।অন্যদিকে পুরুষদের চেয়ে নারী কর্মজীবীদের প্রকৃত আয় বেশি কমেছে। ২০১৩ সালে একজন কর্মজীবী নারী প্রতি মাসে গড়ে ১৩ হাজার ৭১২ টাকা মজুরি পেতেন। এখন পান ১২ হাজার ২৫৪ টাকা। মজুরি কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরুষেরা চার বছর আগে পেতেন ১৪ হাজার ৩০৯ টাকা। এখন ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৫৮৩ টাকা মজুরি পান। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বুধবার গুলশানের এক হোটেলে এই গবেষণা প্রকাশ করা হয়। গবেষণা উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে ওই গবেষণাপত্রের ওপর সংলাপ অনুষ্ঠান হয়।সিপিডির গবেষণায় আরও বলা হয়, কর্মক্ষম বয়সের নারীদের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ কোনো মজুরির বিনিময়ে কাজে সম্পৃক্ত নয়, আবার পড়াশোনা কিংবা প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না তাঁরা। এর ফলে শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ নেই। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রয়োজন। সিপিডি আরও বলেছে, গত চার বছরে শিল্প খাতে সাড়ে আট লাখ নারীর কর্মসংস্থান কমেছে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আগামী চার দশক জনমিতির লভ্যতার দ্বারপ্রান্তে আছে বাংলাদেশ। শ্রমবাজারে অনেক তরুণ-তরুণী আসবে। আমরা তাদের কীভাবে কাজে লাগাব-তা ভাবতে হবে। নারীদের শোভন কাজের বিষয়টি ভাবতে হবে।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) শামসুল আলম বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান কীভাবে কমিয়ে আনুষ্ঠানিক আনা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা নিতে হবে। আবার গৃহস্থালির কাজ করেন, কিন্তু মজুরি পানÑএমন নারীদের কাজের মূল্য কীভাবে বের করা যায়, তা গবেষণা করে বের করা উচিত। তাহলে তাদের অবদান জাতীয় আয়ে যুক্ত করা যাবে।সংলাপ অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, অর্থনীতিবিদ, নারী নেত্রীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।সমীক্ষা প্রতিবেদন তুলে ধরে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের লক্ষ্য অর্জনে নারীদের আনুষ্ঠানিক শ্রম বাজারে আনতে এখন থেকে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।জনমিতিক লভ্যতার সদ্ব্যবহারে মহিলাদের জন্য যথাযথ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা’ শীর্ষক এই সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।তিনি বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সদ্ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই দেশের মহিলা শ্রম শক্তি কাজে লাগাতে হবে।বর্তমানে মহিলাদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মাত্র শ্রমবাজারে আছে। দেশের ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ নারী শিক্ষা, চাকরি বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণে নেই। এরকম একটা অবস্থান থেকে আমাদের উত্তরণ করতে হলে শিক্ষাই বড় ভূমিকা রাখবে। মোস্তাফিজ বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সঙ্গে যদি নারীদের কর্মমূলক প্রশিক্ষণও দেওয়া যায়, তবে তা নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানোয় ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে মহিলাদের উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা যত বেশি দিতে পারব, ততই আগামী দিনে যেসব নতুন খাত অর্থনীতিতে আসবে সেখানে মহিলাদের কর্মসংস্থান বেশি হবে।তিনি বলেন, আমাদের মতো অর্থনীতির অন্যান্য দেশে আমাদের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি মহিলা কাজে অংশ গ্রহণ করছে। সেটা যদি আমাদের দেশে করতে হয়, তাহলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। মোস্তাফিজ বলেন, এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ মহিলাই অপ্রাতিষ্ঠানিক জায়গাতে কাজ করছেন। সেখানে তাদের কর্মপরিবেশ ও আয় অনেক কম।নারীদের শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নয়, ভালো আয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন সিপিডির সাবেক নির্বাহী পরিচালক তিনি।কর্মক্ষেত্রে নারীরা সন্তান, পরিবহনসহ নানা বিষয় নিয়ে যে সব সমস্যায় পড়েন, তা দূর করার উপরও তিনি জোর দেন। মোস্তাফিজ বলেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনাকে আমরা যদি কাজে লাগাতে চাই, তাহলে নীতি-নির্ধারক ও নীতি বাস্তবায়নে পরিবর্তন আনতে হবে।তাহলে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা সেটি আমরা পূরণ করতে পারব। এজন্য আগামীতে শ্রমবাজারে মহিলা বান্ধব কর্ম পরিবেশ তৈরির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড.শামসুল আলম।তিনি বলেন, দেশের বিশাল একটা মানব সম্পদকে আমরা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছি। এটা জাতীয় সম্পদের অপচয়। ফোকাস বাংলা