সুন্দরবনে্ অস্ত্র সহ ছয় বাহিনীর ৫৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অচিরেই সুন্দরবনকে বনদস্যু-জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হবে। আমরা যেভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমন করেছি, সেভাবেই সুন্দরবন থেকে বনদস্যু-জলদস্যুদেরও দমন করা হবে। যারা এদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও আইনের মুখোমুখি করা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তিনি গতকাল বুধবার খুলনার র্যাব-৬’র কার্যালয়ে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং সাবেক জলদস্যুদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌন্দর্যের এই লীলা ভূমিতে বনদস্যু-জলদস্যুরা অবস্থান নিয়েছিল। র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছয়টি বনদস্যু বাহিনী ভুল বুঝতে পেরে আজ আত্মসমর্পণ করল। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব সময় বলেন- আমরা যদি তাত্ক্ষণিক তাদের শাস্তি দেই তাহলে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে না। আমরা তাদেরকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খাদ্য ভেজালমুক্ত করতে র্যাব যেভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে, মাদকের বিরুদ্ধেও সেভাবে অভিযান চালানো হবে। র্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের কাছে তালিকা দিয়েছে কারা মাদক ব্যবসা করে, কারা এর সঙ্গে জড়িত আর কারা এগুলো বহন করে। আমরা সেই তালিকা অনুযায়ী বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার চেষ্টা করছি। ক্রসফায়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ কাউকেই ক্রস ফায়ার দেয় না। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কখনই গুলি করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়। জীবন রক্ষার্থেই তারা শুধু গুলি চালায়। এতে শুধু সন্ত্রাসী, বনদস্যু, মাদক ব্যবসায়ীরাই নিহত হচ্ছে না, তাদের গুলিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হচ্ছে।

 

৫৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ : গতকাল সুন্দরবনের ছয়টি বনদস্যু বাহিনীর ৫৭ জন সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ৫৮টি অস্ত্র ও এক হাজার ২৮৪ রাউন্ড গুলি হস্তান্তর করে আত্মসমর্পণ করেছেন। এরা হলো- দাদা ভাই বাহিনীর ১৫ জন, হান্নান বাহিনীর ৯ জন ও আমির আলী বাহিনীর সাতজন, সূর্য বাহিনীর ১০ জন, ছোট সামসু বাহিনীর ৯ জন, মুন্না বাহিনীর ৯ জন। বাহিনীগুলোর মধ্যে দাদা ভাই বাহিনীর প্রধান মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে রাজন ওরফে দাদা ভাই (৩৮) প্রথম মন্ত্রীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বাহিনীর ১৫ জন সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে একে একে বাকি পাঁচটি বাহিনীর সদস্যরাও আত্মসমর্পণ করে।

 

মামলা প্রত্যাহার চান বনদস্যুরা : আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুরা পুলিশের হয়রানি ও তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট। দাদা ভাই বাহিনীর প্রধান দাদা ভাই বলেন, আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে চাই।