‘এটি বাংলাদেশের জন্য বড় সম্মানের। এ সম্মান শুধু আমার নয়, সব বাঙালির’আসানসোলে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি সকল বাঙালিকে উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার জন্য আজকের দিনটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ কবি নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে ডিলিট প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ মে) পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য শেখ হাসিনাকে এই ডিগ্রি দেয়া হয়।

কবি নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েকটি লাইন আবৃত্তি করে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আবৃত্তি করেন-
“বল বীর
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি নতশির ঐ শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি
ভূলোক-দুলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন আরশ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চিরবিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!”

শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুল ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক, নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা, সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সৈনিক। অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার বাণী তার বচন ও আচরণে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অতি প্রিয় দুখু মিয়ার শৈশব, কৈশোর অতিবাহিত হয়েছিল চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে। আর তাই তার সাহিত্যচর্চার বহুমুখী পটভূমিটিও সংগ্রামমুখর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুল আমাদের সকলের। বাংলা ভাষাভাষী সকল মানুষের প্রাণের অন্তস্থলে তিনি রয়েছেন। কবি প্রাবন্ধিক অন্নদাশঙ্কর রায় লিখেছেন:
“ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে,
ভাগ হয়নি কো নজরুল।”
তিনি আরও বলেন, সত্যই তো নজরুল ভাগ হয়নি। আর তারই প্রতিফলন কবির নামে পশ্চিমবঙ্গে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশেও তার নামে বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কবির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এসময় কবি নজরুলের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বয়সে তখন ছিলেন তরুণ। বাংলার ইতিহাসের এই দুজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্বের চরিত্রে ছিল দারুণ মিল। একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি আর অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।