স্থানীয় সরকারও এখন আ.লীগের কবজায়

স্থানীয় সরকারের সব স্তরে এখন আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব। জেলা ও উপজেলা পরিষদ থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ৮৩ শতাংশের শীর্ষ পদ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে। দলটির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় দলের এই সংহত অবস্থান ভবিষ্যতে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানাভাবে সাহায্য করবে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দলটির নীতিনির্ধারকেরা স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে অবস্থান সংহত করার পরিকল্পনা করেন। এ জন্য স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেই সময়মতো নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অতীতে সরকারগুলো স্থানীয় সরকারের বিষয়ে উদাসীনতা দেখিয়েছে। এর ফলে নানা ছুতোয়, মামলায় স্থানীয় সরকারের নির্বাচন বছরের পর বছর ঝুলে থাকার নজির তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছরে যতটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, এর প্রায় সব কটিতেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর দুর্বল অবস্থা সরকারের এ উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে।

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রী-সাংসদেরা পদে থাকবেন না। কিন্তু স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্বপদে বহাল থাকবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসন তাঁদের অধীন। ফলে নির্বাচনের মাঠে তাঁদের একটা প্রভাব থাকবে, যা দলের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। এ জন্যই আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় মনোযোগ দিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পাওয়ার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতা কিছুটা কমতে পারে। আর বিরোধী দল আন্দোলনে নামলে প্রতিরোধও করা যাবে।

দলের আরেকটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছে ভিশন ২০২১ সামনে নিয়ে। ‘উন্নয়নের স্লোগান’ নিয়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আওয়ামী লীগ দেশ শাসন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে তৃণমূলেও দলীয় নেতৃত্ব দরকার। এ জন্যই স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় জোর দিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ  বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা জাতীয় নির্বাচনের সময় ভূমিকা রাখবে—এমন কোনো পরিকল্পনা বা ভাবনা আমাদের নেই। সর্বস্তরে গণতন্ত্রের চর্চা ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সব স্তরে দলের বেশি বেশি জনপ্রতিনিধি থাকার অর্থ হচ্ছে দল খুব শক্তিশালী।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন  বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে তাঁরা জনগণের সত্যিকার ভোটে হননি। ফলে তাঁরা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নন। সরকার বুঝে-শুনেই এবং কোনো এক পরিকল্পনা থেকে জোরজবরদস্তি ও সিল মেরে এভাবে দখলে নিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, বাকশালও বুঝে-শুনেই করেছিল। কিন্তু বুমেরাং হয়েছে। এই তথাকথিত জনপ্রতিনিধিরাও একদিন আওয়ামী লীগের জন্য বোঝা হবেন। তাঁরা জনগণের ক্ষোভের কারণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁরা যাঁদের কথা বলবেন, তাঁদেরই ভরাডুবি হবে। এঁদের নিয়ে বিএনপি চিন্তিত নয়। তারা একদিন ভেসে যাবে।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির কাছে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে, এর নির্বাচনগুলো ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এতে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। তবে যাঁরা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁদের কাছে প্রত্যাশা হচ্ছে, এরপরও তাঁরা জনগণের জন্য কাজ করবেন। তাহলে কিছুটা হলেও দুর্নাম ঘুচবে।

প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের এক মাস পরই সারা দেশে কয়েক ধাপে ৪৭১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু করে। এরপর ঢাকার দুটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের শেষের দিকে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ছয় ধাপে প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ হয়। চলতি ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন। উপজেলা পরিষদের প্রথম দুই পর্ব এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাদ দিলে বাকি সব নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান, জবরদস্তি ও সংঘাত-প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিপুল সংখ্যায় সরকারদলীয় প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই প্রবণতা নজিরবিহীন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের ভোট প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাকি আছে। আর কিছু ইউনিয়ন ও পৌরসভার ভোট আটকে আছে আইনি জটিলতায়। এর মাঝে মাঝে কিছু ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভায় ভোট হয়েছে। সেটা হিসাবে নেওয়া হয়নি।

নির্বাচন কমিশন বার্তা ও  অনুসন্ধানে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকারের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৪ শতাংশ শীর্ষ পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত বা সমর্থিত ব্যক্তিরা জয়ী হয়েছেন। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী যোগ করলে দেখা যায়, ৮২ দশমিক ৬৭ শতাংশ শীর্ষ পদই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দখলে। কাউন্সিলর, ভাইস চেয়ারম্যান ও সদস্য পদেও আওয়ামী লীগেরই প্রাধান্য ছিল। অন্যদিকে এই পাঁচ স্তরের ভোটে বিএনপির ১১ শতাংশের কম নেতা শীর্ষ পদে বসতে পেরেছেন। এমনকি নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি নাশকতার মামলায় বহিষ্কার হয়ে কারাগারে গেছেন।

দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৫৩। ১১টি সিটি করপোরেশন ও ২৩৪টি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলা পরিষদের সংখ্যা ৪৮৯টি। আর জেলা পরিষদ ৬৪টি হলেও পার্বত্য তিন জেলায় আইন আলাদা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য চলতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২১ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। এর আগের বছর বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ২২১ কোটি টাকা। এসব বরাদ্দের বেশির ভাগ খরচ করা হয় নানা প্রকল্পের মাধ্যমে। বাকি অর্থ ব্যয় করা হয় বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণ, কেনাকাটাসহ নানা অনুন্নয়ন খাতে। স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর বাইরে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় ও সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জমি, হাট, ঘাট, স্ট্যান্ড, মার্কেট, বাংলোসহ নানা সম্পদের ইজারা ও ভাড়া থেকে আয় হয়।

আওয়ামী লীগের দুজন কেন্দ্রীয় নেতা ও সাংসদ বলেন, এত দিন দলের নেতা-কর্মীরা শুধু মন্ত্রী-সাংসদদের পেছনে ঘুরতেন। চাকরি, টেন্ডার, ভাতা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য মন্ত্রী-সাংসদই ছিলেন ভরসা। স্থানীয় সরকারের সব স্তরেই দল মনোনীত, সমর্থিত কিংবা দলের নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের হাতে কমবেশি বরাদ্দ আসে। তাঁরা নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। ফলে দলের নেতা-কর্মীদের লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকলে নেতা-কর্মীরা মন্ত্রী-সাংসদদের বিরুদ্ধে পাওয়া না-পাওয়ার অনুযোগ-অভিযোগ করে থাকেন। এখন অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও একই অভিজ্ঞতায় পড়তে হবে।

তবে ওই নেতারা এও বলেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের দলের নেতা-কর্মীদের কর্তৃত্ব থাকার অনেক লাভ। আবার কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক বড় নাকি সাংসদ বড়—এই দ্বন্দ্ব চলতে থাকবে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের সঙ্গে তো ইতিমধ্যে লেগে গেছে। এ ছাড়া অনেক স্থানে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী হিসেবে জয়ী হয়েছেন অনেকে। ফলে দলের নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠতে পারে, যা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

ইউনিয়ন পরিষদ: পৌরসভার ভোট শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ছয় পর্বে প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হয়। জাল ভোট ও জোরজবরদস্তির ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। সংঘাত-সহিংসতায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়। এ নির্বাচনকে এযাবৎকালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইউপি নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

সারা দেশে আওয়ামী লীগ মনোনীত ২০৭ জন চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জয়ী হন ২ হাজার ৬৫২ জন। চেয়ারম্যান পদে বিএনপি জয়ী হয় ৩৬৭টি ইউপিতে। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হন ৮৮৯টি ইউপিতে। তবে এই স্বতন্ত্রদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। অর্থাৎ ৬৭ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরাসরি আওয়ামী লীগের প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। বিদ্রোহী ধরলে ৮০ শতাংশের বেশি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগেরই নেতা-কর্মী। অন্যদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান হয়েছেন ৯ শতাংশের সামান্য বেশি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার হার ৫ শতাংশের কিছু বেশি।

উপজেলা পরিষদ: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর পরের মাসের মাঝামাঝি ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ষষ্ঠ ধাপের ভোট শেষ হয় ওই বছরের ৩১ মে। ছয় পর্বে সারা দেশের ৪৭১টি উপজেলায় ভোট হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হন ২২৯টিতে। আর বিএনপি পায় ১৫৭টি। বাকিগুলো জামায়াত, স্বতন্ত্রসহ অন্য দলগুলো পায়।

প্রথম দুই পর্বের ভোটে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তী পর্বগুলোতে তারা এগিয়ে যায়। শেষ চার পর্বে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান ও জোরজবরদস্তির অভিযোগ উঠেছিল। অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের একার। বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ধরলে অর্ধেকের বেশি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। অন্যদিকে বিএনপির উপজেলা চেয়ারম্যান ৩৩ শতাংশের কিছু বেশি।

পৌরসভা: গত বছরের শেষ ভাগে এসে ২৩৪টি পৌরসভার ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হয়। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের সাতজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ফেনীতে মেয়র ও কাউন্সিলর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। ভোটের দিন জোরজবরদস্তি ও জাল ভোটের ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে ১৮১ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নেতারা মেয়র নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এঁদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। আর বিএনপি জয়ী হয় ২৫টিতে। জাতীয় পার্টি জয়ী হয় একটিতে। অর্থাৎ পৌরসভার ৭৮ শতাংশ মেয়র আওয়ামী লীগের মনোনীত। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ধরলে পৌর মেয়রের ৮৫ শতাংশই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র ১১ শতাংশেরও কম। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার হার ৩ শতাংশ।

সিটি করপোরেশন: ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে পুনরায় আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। টানা প্রায় তিন মাস জ্বালাও-পোড়াওয়ের পর সরকার হঠাৎ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। তিন সিটিতে বিএনপিসহ অন্য দলগুলো অংশ নেয়। কিন্তু নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান ও জবরদস্তির সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয় গণমাধ্যমে। তিন সিটিতেই আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন।

১১টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি, চট্টগ্রামে ২০১৫ সালে এবং চলতি বছরে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন হয়েছে। আগে অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রও আওয়ামী লীগের। বাকি ছয়টি সিটি করপোরেশনের ভোট হয় ২০১২ ও ২০১৩ সালে এবং সবগুলোতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র হয়েছেন। তবে কুমিল্লা বাদে বাকি সব মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। নাশকতাসহ নানা মামলায় অনেকে কারাগারে আছেন। খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনি অবশ্য আদালতের আদেশ নিয়ে মেয়র পদ ফিরে পেয়েছেন।

জেলা পরিষদ: সর্বশেষ জেলা পরিষদের ভোটে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ৪৬ জেলায় জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ ৭৫ শতাংশের বেশি আওয়ামী লীগের। ১২ জেলায় আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন। বগুড়া ও কুষ্টিয়ায় ভোট স্থগিত আছে। এই দুই জেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীই জয়ী হবেন বলে দলের নেতারা জানিয়েছেন। একজন শুধু স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। অর্থাৎ জেলা পরিষদে চেয়ারম্যানদের প্রায় ৯৯ শতাংশই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান জয়ী হয়েছেন ২১ জন (প্রায় ৩৪ শতাংশ)।

সূএ: প্রথম আলো