ছাত্রলীগের দুই নেতার জামিন বাতিলের খবর জানে না পুলিশ!

রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদকালে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই ছাত্রলীগ নেতার (পরে বহিষ্কৃত) জামিন বাতিলের খবর জানে না পুলিশ।

এক মাসে আগে দুজনের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ঢাকার আদালতের পুলিশ বলছে, যথাযথ নিয়ম মেনে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে আদালতের এ আদেশ পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবুল হক জানান, এ মামলায় আসামিদের জামিন বাতিল হওয়ার কোনো কাগজ তাঁর কাছে আসেনি। যেটা এসেছে সেটা শুধু মামলার রিমান্ডের আবেদন। তিনি এখন পর্যন্ত এ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তারের কোনো উদ্যোগ নেননি।

এসআই আরো বলেন, ‘আসলে মামলাটি অনেক স্পর্শকাতর। তাই কাগজ দেখে বাকি তথ্য দিতে পারব। তবে এখনো আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো অভিযান করা হয়নি।’

এদিকে, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) এমরানুল ইসলাম জানান, তিনি আগে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। এখন বদলি হয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) কর্মরত আছেন। তবে এ মামলায় আদালত থেকে পাঠানো কাগজ বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন এ মামলার তদন্ত করবেন ও আসামিদের গ্রেপ্তার করবেন।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল রহমান বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৪ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এমরানুল ইসলাম সাতদিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু আসামিরা রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এসআই মাহমুদুল আরো জানান, আদালতের যথাযথ নিয়ম মেনে তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতের বিচারকের আদেশনামা পাঠানো হয়েছে এবং তার স্মারক নম্বর রয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৮ জানুয়ারি এ মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে। ওই তারিখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেল কি না তার প্রতিবেদন দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

এদিকে এ মামলার নথি ঘেঁটে জানা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম আসামিদের জামিন বাতিল করে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এই দুজন হলেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান। মামলা নম্বর ৪০(১০)২০১৬। ধারা- ১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩০৭ দণ্ডবিধি।

রিমান্ডের আবেদন থেকে জানা যায়, দুই আসামি আদালত থেকে জামিন নেওয়ার পর তা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আসে। আর এতে অনেক সমালোচনা হয়। আসামিদের অস্ত্র দেখানোর দৃশ্যও পত্রিকায় আসে। এ আসামিরা অস্ত্র কোথা থেকে পেলেন ও অস্ত্রগুলো বৈধ কি না, তা যাচাই-বাছাই করতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর ছাত্রলীগের এই দুই নেতা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর গুলিস্তান পাতাল মার্কেট এলাকার ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় ছাত্রলীগের তৎকালীন দুই নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলায় ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশিকুর রহমানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। গুলি ছোড়ার ঘটনা প্রকাশের পর সংগঠন থেকে এদের বহিষ্কার করা হয়।-এনটিভি