‘ইউনিফর্ম পরা কেউ খালেদাকে ক্ষমতায় নেবে না

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা খালেদা জিয়ার ভুল ছিল মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইউনিফর্ম পরে সাজোয়া গাড়িতে করে কেউ খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না। নির্বাচনই হচ্ছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র হাতিয়ার। সেজন্য বিএনপিকে জনগণের কাছে যেতে হবে।

৫ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপিবিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত পৃথক সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

এসব সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, বিএনপি আবার পানি ঘোলা করতে চায়। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করতে চায়। দুই-দু’বার তাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি শিক্ষা না পেয়ে থাক, তাহলে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে বাংলার মানুষ তাদের চিরদিনের মতো গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়ে দেবে।

ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ারে মহানগর উত্তরের সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া বহুবার ‘উত্তরপাড়া’র উদ্দেশে উসকানি দিয়েছেন, লাভ হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না। উত্তরপাড়ার দিকে তাকানোর আর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সরকার উৎখাতে খালেদার ষড়যন্ত্র কোনোদিনই সফল হবে না। তার দল বিএনপি নিজেই এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিএনপি চেয়ারপরসনকে উদ্দেশ করে বলেন, নির্বাচন বর্জন করে মানুষ হত্যা করে কী পেলেন এবং ভবিষ্যতে কী পাবেন-সেটা আপনাকে ভাবতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচন বর্জন অত্যন্ত বেদনার। গণতন্ত্র ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা চলতে পারে না। যারা কথায় কথায় নির্বাচন বর্জন করে, তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চায় না।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা খালেদা জিয়ার ভুল ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থেকে ইউনিফর্ম পরে সাজোয়া গাড়িতে করে কেউ খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে না।

দেশে চলমান গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামে আজ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী হলে নির্বাচনে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দরকার হবে না। সেনাবাহিনীর দরকার হবে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলে দেশে সুশাসন থাকবে না।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ডা: দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা: রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে হত্যার উদ্দেশে আন্দোলনের নামে বিএনপি ৫ জানুয়ারি গণহত্যা চালিয়েছিল। বিএনপি আবার পানি ঘোলা করতে চায়। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করতে চায়। এই দেশে আর কোনো গণহত্যা করতে দেওয়া হবে না। এই দেশের অগ্রগতি ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেয়া হবে না। দুই-দু’বার তাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি শিক্ষা না পেয়ে থাক, তাহলে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে বাংলার মানুষ তাদের চিরদিনের মতো গণতন্ত্রের শিক্ষা দিয়ে দেবে।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি আবারো সন্ত্রাস নাশকতার পথে গেলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। অতীতের মতো আমরা তাদের রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করবো।

দলের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, সব ইস্যু হারিয়ে খালেদা জিয়া এখন মিথ্যা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে চাচ্ছেন। আজকে তারা সারাদেশে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনের কর্মসূচি দিয়েছিল। কিন্তু কোথাও তাদের নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। জনগণ তাদের প্রতিহত করেছে।

মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সবুর, দেলোয়ার হোসেন, সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।