কি কি ভুলের কারনে হেরেছে ভারত

রোববার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলার অরুন জেটলি মাঠে ঘরের মাঠেই প্রথম টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের কাছে ৭ উইকেটে হারে ভারত। এটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের টি-টুয়েন্টিতে প্রথম হার। সাধারণত বাংলাদেশের ম্যাচে ‘বাংলাদেশ কী কী ভুল করেছে’—এমন বিশ্লেষণ দেখতেই অভ্যস্ত সবাই। কিন্তু প্রতিপক্ষ যত ভালো দলই হোক না কেন, ভুল তো তাদেরও হয়! ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়ার’ মতে ভারতের হারার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলঃ

সাদামাটা সংগ্রহ: রোহিত শর্মা-মুশফিকুর রহিম থেকে বিশ্লেষকেরা ভেবেছিলেন ভারতের স্কোরটা লড়াকু। রোহিত এর পক্ষে যুক্তিও দেন ম্যাচ শেষে, ‘আগে ব্যাট পেলে ভেবেছিলাম ১৪০-১৫০ রানের মতো করব। ১৪৮ রান ভালো সংগ্রহ। আমরা মাঠে কিছু ভুল করেছি। অনভিজ্ঞরা এখান থেকে শিখতে পারবে।’ কিন্তু পূর্ণ শক্তির বোলিং লাইন আপ ছাড়া এই স্কোরকে লড়াকু বলা কি কিছুটা দুঃসাহসের প্রকাশ নয়? দিল্লির সেই (অরুণ জেটলি) মাঠে আগে ব্যাট করা দলের গড় সংগ্রহ ১৫৬। তাহলে?

ডিআরএস নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত: ১০ম ওভারে সৌম্য সরকারের ক্যাচের আবেদন করেন উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্ত। আম্পায়ার নাকচ করে দিলেও অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে রিভিউ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। অধিনায়ক তাঁর কথামতো রিভিউ নেন এবং রিভিউটি নষ্ট হয়। এর আগে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছিলেন মুশফিক। উইকেটরক্ষক রিশাভ এ যাত্রায় তা ধরতে পারেননি এবং রিভিউ নেওয়ার জন্য অধিনায়ককে বলেননি। সব মিলিয়ে উইকেটের পেছনে ম্যাচটা ভালো কাটেনি রিশাভের। খেলা শেষে রোহিতও স্বীকার করেছেন, ‘আমরা রিভিউয়ের ক্ষেত্রে ভুল করেছি। মাঠে (ফিল্ডিংয়ে) তেমন ভালো ছিলাম না।’

ডান-বাম অ্যাঙ্গেল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা: বাংলাদেশের ইনিংসে শেষ ৬ ওভারের মধ্যে ৩ ওভারই করেছেন বাঁ হাতি পেসার খলিল আহমেদ। এর কারণ, অধিনায়ক রোহিত শর্মা ভেবেছিলেন উইকেটে দুজন ডান হাতি থাকলে খলিলের বেরিয়ে যাওয়া কাটারগুলো কাজে লাগবে। কিন্তু মুশফিক-সৌম্য খেলাটা টেনেছেন রোহিতের প্রত্যাশারও চেয়েও বেশি সময়। ভারতীয় অধিনায়ক দুজন ডান হাতির অপেক্ষা করতে করতে তাই খলিলকে টেনেছেন শেষ সময়ে। ওদিকে মুশফিক-সৌম্যরাও পেসারদের অপেক্ষায় ছিলেন। ম্যাচ শেষে মুশফিকই বলেছেন, ‘আমাদের একজন ১৯ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলে ২৫ রান তাড়া করা সম্ভব। কারণ ওরা পেস খেলাবে।’ ১৯তম ওভারে খলিলকে টানা চারটি চার মেরে ম্যাচটা ওখানেই শেষ করে দেন মুশফিক।

পাওয়ার প্লে-র জড়তা: রোহিত শর্মাকে দ্রুত তুলে নিলে কী ঘটে ভারত তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৩৫। অন্যদিকে বোলিংয়েও পাওয়ার প্লে-তে ভালো করতে পারেনি স্বাগতিক বোলাররা। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৪৫। এর মধ্যে পঞ্চম ও ষষ্ঠ ওভার মিলিয়ে এসেছে ২৫। ভারতের পাওয়ার প্লে-তে আমিনুল ইসলাম ও আফিফরা কিন্তু খুব ভালো বল করেছেন।

লেগিদের ওপর আস্থাহীনতা: যুজবেন্দ্র চাহালের করা ১৮তম ওভারে মুশফিকের ক্যাচ ফসকান ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। ওই ক্যাচটা ধরলে ম্যাচের ভাগ্যও হয়তো পাল্টাতে পারত। সেটি না হওয়ায় ওই ওভারে ক্রুনালের দেওয়া ১৩ রানই বেশি করে চোখে বিঁধেছে। সত্যি বলতে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট লেগিদের ওপর আস্থাশীল হতে পারেনি। বিরাট কোহলির নেতৃত্বে দলে লেগিদের কদর কম। কারণ শেষ দিকে ব্যাট করতে পারে এমন খেলোয়াড়ই বেশি পছন্দ ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের। পরশুর ম্যাচেও তাই হয়েছে। ওয়াশিংটন সুন্দর ও ক্রুনাল ভারতের ইনিংসে শেষ দিকে হয়তো রান তুলেছেন কিন্তু বোলিং-ফিল্ডিংয়ে গল্পটা পাল্টেছে। সেখানে যুজবেন্দ্রই সেরা।