তীব্র শীতের মধ্যে ২ সন্তান ও স্ত্রীকে বাসস্ট্যান্ডে রেখে পালাল স্বামী

বিয়ে হওয়ার ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসস্ট্যান্ডে স্ত্রী, স’ন্তানসহ রেখে লা’পা’ত্তা হয়েছেন স্বামী। বারবার ফোন দিলেও তার পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব নয় বলে ফোন কে’টে দেন। তীব্র শীতের মধ্যে বাসস্ট্যান্ডে বসে আছেন মধ্যবয়সী এক নারী। তার কোলে ছয় মাসের শি’শু। পাশেই হাত দিয়ে ধরে রেখেছেন চার বছর বয়সী আরেক স’ন্তানকে। একই সঙ্গে মোবাইলে কা’ন্না করে কাউকে বলেছেন, আমাকে নিয়ে যান, আপনি কোথায় গেলেন, আমি আপনার কাছে কিছুই চাই না, শুধু সংসার করতে চাই। আজ শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ-কি’শোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল উপজে’লা সদরের পুরনো বাসস্ট্যান্ডে।

বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করা যাত্রীবাহী বাসের টিকিট মাস্টার মো. মুন্না মিয়া জানান, খুব ভোরে ওই নারী দুই শি’শুস’ন্তানকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসেন। পরে দেখা যায়, ওই নারী মোবাইল ফোনে কার সঙ্গে যেন উচ্চৈঃস্বরে কা’ন্না করে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আকুতি জানান। ওই নারী বলেন, তার নাম ঋতু পর্ণা (২২)। তিনি জামালপুর জে’লার সদর উপজে’লার লাহিড়িকান্দা নামক স্থানের সামছুল হকের মেয়ে।

তিনি ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করতেন। সেখানেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় মোশারফ হোসেন (২৫) নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। কয়েক বছর ঢাকায় থাকার পর বাবার বাড়িতে চলে আসেন। স্বামী মোশারফও মাঝেমধ্যে আসতেন। তাদের সংসারে নিরব ও রূপা নামে দুটি স’ন্তান রয়েছে। নিরবের বয়স ছয় মাস এবং রূপার চার মাস। স’ন্তান জন্ম নেওয়ার পর থেকেই ভরণপোষণ দিতে অনীহা দেখায় স্বামী। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ি যেতে চাইলে বিভিন্ন টালবাহা’নায় এড়িয়ে যায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুই স’ন্তানের অ’সুস্থতার কথা বলে টাকা দাবি করলে স্বামী মোশারফ দিতে অস্বীকার করেন। পরে স’ন্তানসহ নিজে আত্মহ’ত্যার হু’মকি দিলে তাকে ফোনে জানায় নান্দাইলে আসার জন্য। তার কথামতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নান্দাইল সদরে এসে তাকে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে থাকা স্বামীর একটি জন্ম নিবন্ধনের ঠিকানা ধরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উপজে’লার শেরপুর ইউনিয়নের লংগারপার গ্রামে গিয়ে স্বামীর সন্ধান পান।

রাতযাপনের পর তাকে শুক্রবার ভোরে নিয়ে আসে নান্দাইল বাসস্ট্যান্ডে। এরপর আসছি বলে একটি বাসে উঠে চলে যায় মোশারফ। বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্বামীর খোঁজ পাননি ওই নারী। ফোনে বারবার চেষ্টা করে একবার সংযোগ পেলে স্বামী জানায়, তার পক্ষে সংসার করা সম্ভব না। পরে সকাল ১০টার দিকে ওই নারী বাবার বাড়িতে রওনা দেন।