রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে মদ খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যা

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস অব বাংলাদেশের (ইউল্যাব) এক ছাত্রীকে মদ খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তার তিন বন্ধুকে আটক করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। আটক তিন বন্ধু ভুক্তভোগী তরুণীর সহপাঠী।

তারা ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি ভুক্তভোগী ও তার ছেলে বন্ধু মোহাম্মদপুরের একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে মদ্যপান করেন। এরপর ভুক্তভোগী তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে তার ছেলে বন্ধু মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় চলে যান।

সেখানেও ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন তার ছেলে বন্ধু। একে ভুক্তভোগী তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তার বন্ধু এবং ওই বাসার মালিক একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ভুক্তভোগী তরুণীর মৃত্যু হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা খবর পেয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসেন। তরুণীর মৃত্যুর আগে তিনি বাদি হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন।

আমরা ভুক্তভোগী তরুণীর ছেলে বন্ধুসহ তিনজনকে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সকল তথ্য প্রমাণের হাতে পেয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে বলেও জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

এর আগে, গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কলাবাগানে একই ধরনের একটি ঘটনায় আনুশকা নূর আমিন নামের মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

জানা যায়, ওইদিন আনুশকা তার বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলো। সেখানেই তাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

ওই ঘটনায় কলাবাগান থানায় আনুশকার বাবার দায়ের করা মামলায় আসামি ইফতেখার ফারদিন দিহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারেক্তিমুলক জবানবন্দিও দেয় আসামি দিহান। বর্তমানে দিহান কারাগারে রয়েছে।