বিএনপির সাংসদদের থুতু আমার গায়ে লেগে আছে : ডেপুটি স্পিকার

বিএনপির সাংসদ জি এম সিরাজ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের সমালোচনা করায় তার প্রতিবাদ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি বলেছেন, বিএনপির সাংসদদের থুতু আমার গায়ে লেগে আছে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে জিএম সিরাজের বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন।

বিএনপিদলীয় সাংসদ জি এম সিরাজ জাতীয় সংসদে বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতে আটজনের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। আমিও সশ্রদ্ধ চিত্তে সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের নামটি স্মরণ করা হয়নি। যার কণ্ঠে সাত কোটি মানুষ সর্বপ্রথম বাঙালি বলেছেন, সর্বপ্রথম হুংকার দিয়ে বাংলাদেশ বেতারে বলেছেন, আমি মেজর জিয়াউর রহমান বলছি অথবা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে জিয়া বলছি; এ শব্দ আমি নিজ কানেও শুনেছি।

জি এম সিরাজ বলেন, মাননীয় স্পিকার ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা, ধর্ষণ প্রতিটি স্তরে স্তরে লুটপাট পৌঁছে গেছে। বিআরটিএ, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, স্বাস্থ্যখাত, শিক্ষা, ক্ষুদ্র থেকে মেগা প্রকল্প সব ক্ষেত্রে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ মহান সংসদে ভাষণ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বক্তব্যে এসব নিয়ে কোনো কথা বলেননি। এ কারণে আমি তাঁকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্নীতির কারণে সরকার সারা বিশ্বে সমালোচিত। করোনার ভুয়া রিপোর্টের কারণে বাংলাদেশের মর্যাদাহানি হয়েছে। সাহেদ, জিকেজিসহ ভুয়া রিপোর্টের কারণে সারা বিশ্বে সরকার বাংলাদেশকে প্রতারক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের দেশের মানুষ থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর যেতে পারছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের সিন্ডিকেট ৫৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করে বাড়ি করেছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের একজন ড্রাইভার প্রভাব কাটিয়ে ২০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন।

সাংসদ সিরাজ আরো বলেন, গ্লোবাল ফিন্যানসিয়াল ইন্টেগ্রেটিডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। সেই অনুযায়ী, গত দশ বছরে পাচার হয়েছে আট লক্ষ কোটি টাকা। এদের মূল হোতা আব্দুল হাই বাচ্চু, সাংসদ পাপুল, প্রশান্ত কুমার হালদারসহ সবাই সরকারের ঘনিষ্ঠ। সবাই ধরা-ছোয়ার বাইরে থেকে গেছে।

জি এম সিরাজের এমন বক্তব্যের পরে সরকারদলীয় সাংসদদের প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে সংসদ।

সাংসদ জি এম সিরাজ আরো বলেন, শেয়ারবাজার, ব্যাংক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রে হরিলুট চলছে। কিন্তু বিচারহীন দেশে এরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সংসদেও এক ডজন সাংসদ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। দেশে এখন ভোটের মালিক আওয়ামী লীগ, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, এটি অনিয়মের মডেল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই মির্জা কাদের বলেছেন, চট্টগ্রামে ভোট চুরি করেই জয় লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। এসব নির্বাচনে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে কী লাভ? গণতন্ত্র ও বাকশাল দুটি পরস্পরবিরোধী। যেকোনো একটি পন্থা বেছে নেওয়া উচিত। অতএব গণতন্ত্রের মিথ্যা বুলি পরিহার করে সরকারকে একটি পথ বেছে নিতে হবে। সরাসরি বাকশালের ঘোষণা করা উচিত। অন্যথায় দেশের মালিক জনগণকে দেশটা ফিরিয়ে দিন। রাষ্ট্রপতি আমাদের অভিভাবক। তাঁর মুখে মানুষ সত্য ভাষণ শুনতে চায়। আমরা সংখ্যা কম হতে পারি, জনগণ আমাদের ভাষণ শুনতে চায়। কিন্তু এখানে অপর সাংসদরা হৈচৈ করছে। আওয়ামী লীগের উচিত সাধারণ মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া। মানুষের ভালোবাসা ফিরে পেতে আওয়ামী লীগের উচিত দেশের জনগণের কাছে দেশটা ফেরত দেওয়া।

জি এম সিরাজের বক্তব্য শেষে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী বলেন, ‘আপনাদের সংসদীয় রীতি আমার গায়ে লেগে আছে। ১৯৯১ সালে আমি জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগের একটি দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে বক্তৃতা দিয়েছিলাম। তখন আপনাদের সংসদ সদস্যরা গ্যালারি থেকে আমার গায়ে থুতু ছিটিয়ে ছিলেন। এটা হলো আপনাদের সংসদীয় রীতি।’

ডেপুটি স্পিকার আরো বলেন, ‘আপনি যখন সংসদে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে কটূক্তি করবেন, তখন আমরা তার জবাব দেব। এভাবে সংসদীয় রীতি রক্ষা করা যাবে না। এই সংসদে সবাইকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে হবে; সহনশীল হতে হবে।’