মেয়েটিকে কয়েক দফা ধর্ষণ শেষে মার্কেটের দোতলায় আটকে রাখা হয়

কক্সবাজারে কিশোরীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। ২৮ জানুয়ারি ৩ দুর্বৃত্ত ওই কিশোরীকে কক্সবাজারের একটি সড়ক থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

কয়েক দফা ধর্ষণের পর ৩০ জানুয়ারি ওই কিশোরীকে ঈদগাঁও বাজারের একটি মার্কেটের দোতলায় আটকে রাখা হয়। সেখানে ধর্ষণরত কিশোরীর চিৎকার শুনে টহল পুলিশ ৪ জনের মধ্যে ১ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক হয় জাফর প্রকাশ খোরশেদ নামের একজনকে। মামলার পর আরেক দুর্বৃত্ত আহাম্মদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনাস্থলসহ বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৮ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ধলঘাটপাড়া থেকে সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের এক বান্ধবীর ছোট ভাইয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভিকটিম কিশোরী। বিকেল চারটার দিকে কিশোরী ধলঘাটপাড়ার একটি লন্ড্রির সামনে পৌঁছালে তিন দুর্বৃত্তের দল কিশোরীকে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়।

২৯ জানুয়ারি রাতে কিশোরীকে উদ্ধারের পরদিন ৩০ জানুয়ারি ঈদগাঁও থানায় আহাম্মদ উল্লাহ (২৬), জালাল প্রকাশ ওরফে টুক্কুইল্যা (১৯), জাফর আলম (৪০) এবং জাফর আলম প্রকাশ খোরশেদ (৫৫) এর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে ওই কিশোরীর নানা। এর মধ্যে জালাল প্রকাশ ও জাফর আলম পলাতক।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম আরটিভি নিউজকে বলেন, তিনি নিজে মামলাটির তদন্ত করছেন। গতকাল বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ঘটনাস্থলে কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে থানায় নিয়ে আসে। এরপর চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য ওই কিশোরীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। এখন ওই কিশোরীকে কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোন এলাকার একটি বেসরকারি সংস্থার সেফহোমে রাখা হয়েছে।