ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর শিশুকে কোলে নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহীর বাঘায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা সেই গৃহবধূর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার ভূমিষ্ঠ শিশু রাসেলকে কোলে নিয়ে আর্শিবাদ করলেন পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলা মহিলা আ. লীগের সভানেত্রী ফাতেমা মাসুদ লতার বাড়িতে গিয়ে তিনি এ আর্শিবাদ করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র চলে যান। এরপর তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী মুদি দোকানদার বাদশা আলম। এক পর্যায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী।

এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এ খবরটি চোখে পড়ে স্থানীয় সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের। তিনি অসহায় ওই নারীর মেডিক্যাল চেকাপ থেকে শুরু করে ভূমিষ্ঠ হওয়ার শিশুর লালন-পালনসহ সকল কিছুর ব্যয় বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে গত ২৫ দিন পূর্বে আলোচিত ওই নারীর গর্ভ থেকে একটি পুত্র শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। অতঃপর ওই শিশুর নাম রাখা হয় রাসেল। সেই রাসেলকে শুক্রবার রাতে কোলে নিয়ে দোয়া ও আর্শিবাদ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এরপর শিশুর মায়ের হাতে ফের নগদ অর্থ তুলে দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা, উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু ও অধ্যক্ষ নছিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহেদ সাদিক কবির আ. লীগ নেতা মাসুদ রানা তিলু, সকল ইউপি চেয়ারম্যান ও বাঘা পৌর সভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টুসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

বাঘা উপজেলা মহিলা আ. লীগের সভানেত্রী ফাতেমা মাসুদ লতা জানান, ভুক্তভোগী ওই নারীর খবরটি শোনার পর আমি সেখানে ছুটে যাই এবং থানায় মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা করি। এরপর বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদ পড়ে ব্যথিত হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি তাৎক্ষনাৎ আমাকে ফোন করে ওই শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।