সবর্নাশের সাক্ষী যেই আইপিএল, সাকিব ফিরছেন সেখানেই

১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। এদিন সকালেই মিডিয়াপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ল এক খবর, ‘আইপিএলের জন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলবেন না সাকিব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানালেন, ‘সাকিব এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি খেলতে চায়। টেস্ট খেলতে চায় না। আইপিএলের জন্য ছুটি চেয়েছে সে। আমরাও মনে করি কেউ খেলতে না চাইলে তাকে জোর করে খেলিয়ে লাভ নেই। তাই সাকিবকে ছুটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।’

সাকিবের এমন সিদ্ধান্তের পর দেশের ক্রিকেট সমর্থকরা দুই দলে বিভক্ত হয়েছেন। এক দল বলছেন, দেশের ক্রিকেট থেকে ছুটি নিয়ে সাকিবের আইপিএল খেলার সিদ্ধান্ত মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। অন্য দল বলছেন, এ বছরের শেষের দিকে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সাকিবের আইপিএল খেলার সিদ্ধান্ত সঠিক।

ভক্তদের মন্তব্য যাই হোক না কেনো সাকিব যে কলকাতার জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফের মাঠে নামার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন সেটা এখন স্পষ্ট।

২০১৪ সালের পর আইপিএলে ট্রফির স্বাদ পায়নি কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআরের জার্সি গায়ে জড়িয়ে দলকে আবারও চ্যাম্পিয়নের স্বাদ ফিরিয়ে দিতে মরিয়া সাকিব। নিলামের পর কেকেআর সমর্থকদের উদ্দেশ্য এক ভিডিওবার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

তবে সাকিবের এই সিদ্ধান্তে কতটুকু লাভবান হলো দেশের ক্রিকেট এখানেই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ক্যারবীয়দের বিপক্ষে দু:স্বপ্নের মতো এক টেস্ট সিরিজ শেষে লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্টের আগে দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়ার সাকিবকে যখন বড্ড প্রয়োজন তখন তিনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব না করে ব্যস্ত থাকবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে!

সাকিবের এই সিদ্ধান্তে হতাশ হতেই পারেন ভক্তরা। প্রশ্নও তুলতে পারেন, সাকিবের কাছে কি দেশের হয়ে টেস্টে সিরিজ জয়ের ট্রফি উচিয়ে তোলার থেকে আইপিএলের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি উচিয়ে তোলার অনুভূতি বেশি সুখকর বেশি দামি?

এইতো গত বছর আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরলেন সাকিব। সবশেষ আইপিএলে দিপাক আগারওয়াল নামক এক বুকির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে সাকিবের বার্তা আদান-প্রদান হয়। সেসময় সাকিবকে আইপিএলেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয় এই বুকি।

২০১৮ সালের ২৬শে এপ্রিল সাকিব আল হাসান সানরাইজার্সে হায়দ্রাবাদের হয়ে মাঠে নামেন, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে। সেসময় সাকিবের কাছে ‘নির্দিষ্ট’ কোনো ক্রিকেটার খেলছেন কিনা সেটা জানতে চান আগারওয়াল।

বুকি দিপাক আগারওয়াল এরপর বিটকয়েন, ডলার একাউন্ট ও ডলার একাউন্টের বিস্তারিত সম্পর্কে জানতে চান সাকিবের কাছে। সাকিব এসবের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, ‘আগে আমার সাথে দেখা করেন।’

সাকিবকে এভাবে আগে-পরে তিনবার প্রস্তাব পাঠানো হয় সেই বুকির পক্ষ থেকে, কোনোবারই সাকিব সেকথা আইসিসিকে জানায়নি। এর ফল স্বরুপ এক বছর পর ২০১৯ সালে আইসিসির ১ বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয় দেশসেরা অলরাউন্ডারকে। সেসময় সাকিবের চোখের জল দেখে কেঁদেছে লাখো বাঙালি। সাকিব দেশের ক্রিকেটে আবারও ফিরবে, দেশের হয়ে সকল ধরনের সফলতার সঙ্গী হবে এমনটাই চেয়েছে ভক্তরা। কিন্তু সাকিব কি ভক্তদের সেই প্রত্যাশার পারদ পুরণ করতে পারলেন?

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাকিব ফিরেছেন দেশের ক্রিকেটে। ফিরেছেন লাল বল, সাদা বল উভয় ফরম্যাটের ক্রিকেটেই। সবশেষ ইনজুরির কারণে বর্তমানে মাঠের বাহিরে রয়েছেন। কিন্তু ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেও সাকিব আপাতত ফিরছেন না দেশের হয়ে সাদা জার্সির ক্রিকেটে। তাই তো টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি নিয়ে খেলবেন চাকচিক্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলে। বলা চলে ‘সর্বনাশা’ সেই আইপিএলে।