সংবিধান অনুযায়ী ‘ইসি’ চাইবে আ’লী‌গ

ঢাকা: নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে সংবিধানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আর তাদের সেই ইচ্ছার বিষয়টি আজ বুধবার রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে দলের পক্ষে সাক্ষাতের পর আরও স্পষ্ট হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের পক্ষে বিভিন্ন সূত্র বলছে, বুধবার দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সংলাপে তারা বসতে যাচ্ছেন সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংলাপের প্রস্তাবনা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নেতা জানান, আওয়ামী লীগ বরাবরই সংবিধানের বাইরে কোন দাবি করেনি, এবারও তার ব্যর্তয় হবে না। আজ বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করবেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডটকমকে জানান, “এই সপ্তাহে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের তালিকা বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। আজ বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে এই সংলাপ বসবে।”

সেখানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যাবে। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, এইচ টি ইমাম, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এ্যাম্বাসেডর মো. জমির, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আইন সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু ও প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে এ কমিশনের মেয়াদ শেষে নতুন যে ইসি দায়িত্ব নেবে, তাদের অধীনে ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে। তাই ইসি গঠনের ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা মধ্য দিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। চার দফায় মোট ২৩টি দলকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানান আবদুল হামিদ। এর মধ্যে কেবল আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আলোচনা বাকি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এতে দেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রপতিকে উপযোগী যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব জানাবে আওয়ামী লীগ। নতুন ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ তাতে স্বাগত জানাবে বলেও দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ইতোপূর্বে আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা নিয়েও কথা বলবে আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিধানগুলো স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে। তবে এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংসদে আইন পাশ করার কথা বলা থাকলেও এখনও তা কোনও সরকার বাস্তবায়ন করেনি।

জানা গেছে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নেরও প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ। তবে, নতুন কমিশন গঠনে সময় কম থাকায় দ্রুততার সঙ্গে সেটা সম্ভব কী না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতেই ছেড়ে দেবে। তবে রাষ্ট্রপতি আইন প্রণয়নের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের প্রস্তাবনা তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত এক নেতা বলেন, ‘আমাদের প্রস্তাব থাকবে একটিই, সংবিধানের ১১৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোন সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করতে পারেন।’