হাসপাতালের অনিয়মের নিউজ করায় ঠিকাদারের মার প্যাচে সাংবাদিক রফিকের কারাদন্ড

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খাদ্যের অনিয়ম নিয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একাধিক করায় দ্রুত বিচার আইনে এবার বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ (বনেক) এর সভাপতি এবং দৈনিক আমাদের কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি খায়রুল আলম রফিককে যেতে হয়েছে কারাগারে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খাদ্য ঠিকাদার হাসেম আলীর দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় গত রবিবার (৭ই মার্চ) দুপুরে খায়রুল আলম রফিককে তিন বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

জানা যায়, ২০১৮ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তিকৃত অসহায় হতদরিদ্র রোগীদের খাবার ওজনে কম, নিম্মমানের খাবার বিতরণ, হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম- দুর্নীতির কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতা খায়রুল আলম রফিক ।

কিন্তু দুঃখের বিষয় সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগ এনে খাদ্য ঠিকাদার হাসেম আলী দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি ময়মনসিংহের পিবিআইয়ের সাবেক এডিশনাল এসপি আবুবকর সিদ্দিক তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, হাসপাতাল ভাঙচুরের কোন আলামত তদন্তে পাওয়া যায়নি, বাদী ঠিকাদার হাসেম আলী তিনিও উপস্থাপন করতে পারেনি। ৭ জন সাক্ষীর মধ্যে পিবিআইয়ের সদস্যরা তদন্তকালে তিনজনের নাম ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আর এমন একটি মামলায় সাংবাদিক খাইরুল আলম রফিকের সাজা হওয়ার বিষয়টি সারাদেশের সাংবাদিকরা দুঃখ প্রকাশসহ সবার মাঝে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজবির সজিব বলেন, ‘খায়রুল আলম রফিক একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক এবং তার সুনাম রয়েছে। সংবাদ করার কারনে যদি এভাবে কারাভোগ করতে হয় তা জাতির জন্য লজ্জাজনক।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেউ আইনের উর্দ্ধে নয়। তাই বলে মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রনিত মামলায় কারাদন্ড হতাশাজনক। সাংবাদিকদের উপর এরকম আক্রোশ ভবিষৎ এ সমস্যা বয়ে আনবে। এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারাবে পরবর্তি প্রজন্ম।’

উল্লেখ্য, সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ চোখে ঝাপসা দেখেন, ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে সেই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে । তার সহকর্মীরা জানান, এর পূর্বেও একটি চক্রের ইন্দনে তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে আইসিটি আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠান। দীর্ঘ দুই মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

আর এখন সাংবাদিক সামাজের একটাই দাবী ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় তদন্ত করা হোক।