দুদকের জালে এসআইয়ের কোটিপতি স্ত্রী

সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নওয়াব আলীর স্ত্রী গোলজার বেগম (৪৮)। চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। তার রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ। চট্টগ্রামে রয়েছে ফ্ল্যাট ও প্লট। আবার চড়েন ব্যক্তিগত গাড়িতে৷ তবে দুদকের মতে এসব অর্জিত সম্পত্তি তার পুলিশ স্বামীর অবৈধ আয়ের। শেষমেশ দুদকের দায়ের করা মামলায় পুলিশের এ কোটিপতি স্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গোলজার বেগম নগরের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার চানমারি এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক বলেন, ‘গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আসামিরা পলাতক ছিলেন। আজ চার আসামির একজন গোলজার বেগম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে, আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।’

আদালত সূত্র বলছে, এসআই মো. নওয়াব আলী দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকার মালিক বানিয়েছেন স্ত্রী গোলজার বেগমকে। মাছ চাষ থেকে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার আয় টাকা করেছেন বলে দাবি করলেও বাস্তবে মাছ চাষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে— নওয়াব আলীর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের কেকানিয়া এলাকায় ২০১৩ সালে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির ওপর একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ, স্ত্রী গোলজার বেগমের নামে সীতাকুণ্ডের ছলিমপুরে ৩৫৪ শতক জমি, নগরের লালখান বাজার এলাকায় পার্কিংসহ ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও ৪ শতক জমি এবং একটি মাইক্রোবাস রয়েছে। নওয়াব আলী কৌশলে স্ত্রী গোলজারকে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকার মালিক সাজিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দুদক ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর এসআই নওয়াব আলী, তার স্ত্রী গোলজার বেগম, কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের সাবেক অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার বাহার উদ্দিন চৌধুরী ও কর পরিদর্শক দীপংকর ঘোষকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আজ সেই মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন গোলজার বেগমকে।