জমায়েত হচ্ছেন মুসল্লিরা

টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে আগামীকাল (শুক্রবার) শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে দেশের ১৭ জেলার মুসল্লিদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

এ উপলক্ষে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে জমায়েত হতে শুরু করেছেন দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ইতোমধ্যেই ইজতেমার ময়দানের সকল আয়োজন শেষ হয়েছে। মুসল্লিরা দলে দলে ময়দানে এসে খুঁজে নিচ্ছে যার যার খিত্তা।

শুক্রবার বাদ ফজর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, এ বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন দেশের ৩৩টি জেলার মুসল্লি। এরমধ্যে প্রথম ধাপে অংশ নেবেন দেশের ১৭ জেলার মুসল্লিরা।

এ ছাড়া বিদেশি মুসল্লিরাও আসতে শুরু করেছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম ধাপ। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি (শুক্রবার) শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ।

প্রথম ধাপে যেসব জেলার মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন- ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, গাজীপুর, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা ও যশোর।

বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের অংশ নেয়ার জন্য বিশাল চটের প্যান্ডেলকে জেলাওয়ারি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে ১৬ জেলার জন্য পুরো প্যান্ডেলকে ২৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। ১ থেকে ৫ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ৬,৭ ও ৮নং খিত্তায় টাঙ্গাইল, ৯,১০ ও ১১নং খিত্তায় ময়মনসিংহ, ১২ নং খিত্তায় মৌলভীবাজার, ১৩ নং খিত্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১৪ নং খিত্তায় মানিকগঞ্জ, ১৫ নং খিত্তায় জয়পুরহাট, ১৬ নং খিত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ নং খিত্তায় রংপুর, ১৮ ও ১৯ নং খিত্তায় গাজীপুর, ২০ নং খিত্তায় বান্দরবান, ২১ নং খিত্তায় রাঙামাটি, ২২ খিত্তায় খাগড়াছড়ি, ২৩ নং খিত্তায় গোপালগঞ্জ, ২৪ নং খিত্তায় শরীয়তপুর, ২৫ নং খিত্তায় সাতক্ষীরা, ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় যশোর জেলার মুসল্লিগণ অবস্থান নেবেন।

দ্বিতীয় পর্বে ১৬টি জেলার মুসল্লিগণ অংশ নেবেন। ২৬ খিত্তায় এসব জেলা হচ্ছে, ১নং থেকে ৫ নং খিত্তায় ঢাকা জেলার বাকি এলাকা, ৬নং খিত্তায় মেহেরপুর, ৭নং খিত্তায় ঢাকা, ৮ নং খিত্তায় লালমনিরহাট, ৯ নং খিত্তায় রাজবাড়ী, ১০নং খিত্তায় দিনাজপুর, ১১ নং খিত্তায় হবিগঞ্জ, ১২ ও ১৩ নং খিত্তায় মুন্সিগঞ্জ, ১৪ ও ১৫ নং খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ১৬ নং খিত্তায় কক্সবাজার, ১৭ ও ১৮ নং খিত্তায় নোয়াখালী, ১৯ নং খিত্তায় বাগেরহাট, ২০ নং খিত্তায় চাঁদপুর, ২১ ও ২২ নং খিত্তায় পাবনা, ২৩ নং খিত্তায় নওগাঁ, ২৪ নং খিত্তায় কুষ্টিয়া, ২৫ নং খিত্তায় বরগুনা এবং ২৬ নং খিত্তায় বরিশাল জেলার মুসল্লিগণ অবস্থান নেবেন।

দু’পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় রাজধানী ও ঢাকাসহ মোট ৩২টি জেলার মুসল্লিগণ অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও বাকি ৩২ জেলার মুসল্লিগণ এবারে শামিল হতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে ইজতেমা মাঠে দায়িত্বে নিয়োজিত আয়োজক কমিটির অন্যতম মুরব্বি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান. মাঠে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং মুসল্লিদের অংশ গ্রহণের সুবিধার্থে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় ৬৪ জেলার মধ্যে শুধু ৩২টি জেলার মুসল্লিগণকে দুইপর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। বাকি ৩২টি জেলার মুসল্লিগণ আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমায় অংশ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, দু’পর্বের বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কর্মকাণ্ড সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় করা হচ্ছে। এজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে এবার আইন-শৃংখলা বাহিনীর ১২ হাজার কর্মী কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাবের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা মনিটরিং হবে। বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেকটর, কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হবে। গাজীপুর সিটি করর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল টিম ও অস্থায়ী চিকিত্সাকেন্দ্র খোলা হচ্ছে।

১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে একই বছর দুইবার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত দুইপর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে।