নৌপথে প্রাণ পণ্য নিয়ে খাদ্যপণ্যের প্রথম চালান গেল ভারতে

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় প্রাণ পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নৌপথে খাদ্যপণ্যের প্রথম চালান পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশে প্রাণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে নৌপথে খাদ্যপণ্য রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

বাংলাদেশ থেকে ভারতে নৌপথে খাদ্যপণ্য পাঠানো উদ্যোগ গ্রহন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ। নিজেদের পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে এ সুযোগটি গ্রহণ করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

নৌপথে খাদ্যপণ্যের প্রথম চালান হিসেবে শুরুতে প্রাণ গ্রুপের ৪০০০০ কার্টন লিচি ড্রিংক প্রাণ ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পার্ক থেকে ১৬ মার্চ রওনা হয়ে নারায়নগঞ্জ থেকে খুলনার শেখবাড়িয়া হয়ে কলকাতা বন্দরের টিটি শেডে গিয়ে পৌছাবে। নারায়নগঞ্জ-কলকাতা নৌরুটে এই খাদ্যপণ্য যেতে ৭১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এই পরিমাণ পণ্য স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করলে ৪০টি ট্রাকের প্রয়োজন হতো।

এতে সড়ক পথের উপর চাপ কমবে ও নৌপথে খাদ্যপণ্য রপ্তানীর মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশের বাণিজ্য আরও ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি নৌপথে পণ্য পরিবহন হলে স্বল্প খরচে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সহজেই বিপুল পরিমান পণ্য রপ্তানী করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপথে ভারতে খাদ্যপণ্য রপ্তানির যে শুভ সূচনা হলো তাতে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়; বরং সারবিশ্বের সব বাঙালীদের জন্য এটি একটি গর্বের বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদীপথে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি কাজ করছি, নৌপথ বাড়ানো, নদীর নাব্যতা ফেরাতে আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমি আশা করছি, দেশপ্রেম নিয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মতো আরও শত শত প্রতিষ্ঠান দেশে গড়ে উঠবে এবং তাদের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

বিআইডব্লিউটি এর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকলের (পিআইডব্লিউটিএন্ডটি) আওতায় অভ্যন্তরীণ নৌ বাণিজ্য প্রধানত ফ্লাইএ্যাশ নির্ভর। শতকরা ৯৬ ভাগ পণ্যই ফ্লাইএ্যাশ, যা সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই বাণিজ্য কার্যক্রম মূলত একমুখী যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ-বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন অবস্থান বিরাজমান রয়েছে। পিআইডব্লিউটিএন্ডটি আওতায় নৌপথে খাদ্যপণ্যের মতো বহুমাত্রিক পণ্য পরিবহন চালু হলে তা নিশ্চিতভাবে উভয় দেশের পারস্পারিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণসহ অর্থনৈতিক বাণিজ্য সম্প্রসারনেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, নৌপথে প্রাণ গ্রুপ প্রথম রপ্তানিকারক হিসেবে পণ্য পাঠিয়ে ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছে, এজন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ ভারতে প্রাণ পণ্যের বিশাল বাজার রয়েছে। এখন ভারতের ২৮টি রাজ্যের প্রতিটিতেই প্রাণ-আরএফএল পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ভারতে প্রাণ এর খাদ্যপণ্য রপ্তানি প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। এখন নদী পথ যুক্ত হলে এবং সফলভাবে রপ্তানি করতে পারলে ভারতে খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে বলে আমি মনে করি।

নরসিংদী-২ এর সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব জাফর উদ্দীন, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটি এর পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কমল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।