নিজের পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি চালান এসআই

পাবনার আতাইকুলা থানার এসআই হাসান আলী (২৮) পিস্তলের গুলিতে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২০ মার্চ) রাত ২টার দিকে থানার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। রবিবার (২১ মার্চ) সকালে তার মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ। মৃত হাসান আলী যশোরের কেশবপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো: জব্বার আলীর ছেলে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে থানার ব্যারাকের একটি কক্ষে ছিলেন এসআই হাসান আলী। রাত দেড়টার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য থানার ছাদে যান। সেখানে তিনি রাতের কোনো এক সময় তার নামে ইস্যুকৃত পিস্তল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেন। রবিবার তার থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে থানায় দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে থানার ছাদে হাসানের মরদেহ পাওয়া যায়। তার আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি। তবে পারিবারিক কলহের কারণে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

তার সহকর্মী একই থানার এসআই রাশিদুল ইসলাম জানান, আমি আর হাসান থানার ব্যারাকে একই কক্ষে থাকতাম। রাতে আমি মোবাইল ফোনে আমার পরিবারের সাথে কথা বলছিলাম। কথা শেষ হওয়ার পর হাসান মোবাইলে কথা বলার জন্য থানার ছাদে চলে যায়। তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ছাদে কখন তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা কেউ টের পায়নি। সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। আমি যতদুর জানি হাসানের সাথে কোনো মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবে পারিবারিক অশান্তিতে ভুগছিলেন।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, হাসান আলী এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাবনার আতাইকুলায় থানায় এসআই হিসেবে যোগ দেন। এর আগে গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।

দুপুর ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজশাহী থেকে ক্রাইমসিন ইউনিটের একটি দল আতাইকুলা থানায় আসার অপেক্ষায় মরদেহ থানার ছাদে ছিল।