কৌশলে গা-ঢাকা দিয়েছে জিয়া-মুসা-চকলেট

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার অন্যতম অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম নিহত হওয়ার পরও সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে আরও তিন জঙ্গি। তারা হলেন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সমন্বয়ক মেজর জিয়াউল হক, নব্য জেএমবির সংগঠক মইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা ও বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেট। দীর্ঘদিন ধরে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে তারা।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, এ তিন শীর্ষ জঙ্গিকে আইনের আওতায় আনা গেলে দেশে জঙ্গি কার্যক্রমের বিষয়ে আরও তথ্য মিলবে। সংগঠন দুটির ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরাও সহজ হবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, মারজানের পর এখন গোয়েন্দা তৎপরতার মূলে এই তিন দুর্ধর্ষ জঙ্গি। কঠোর অভিযানের কারণে নাশকতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা সম্পৃক্ত হতে না পারলেও চেতনার বীজ বুনে যাচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশ নিহত হয়েছে। পলাতক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্রমেই তা জোরদার করা হবে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, এবিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও সামরিক প্রধান মেজর জিয়া পলাতক। তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে কিংবা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা রয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আদর্শিক দিক থেকে নব্য জেএমবি এবং এবিটি কাছাকাছি। তবে তাদের কার্যক্রম ভিন্ন। এবিটির লক্ষ্যের অন্যতম হচ্ছে ব্লগার ও মুক্তমনা মানুষ হত্যা।

অন্যদিকে আবু মুসা ও বাসারুজ্জামান চকলেট নব্য জেএমবির মূলহোতা নিহত জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীর আস্থাভাজন। নব্য জেএমবির টার্গেট মাজারপন্থী, শিয়া সম্প্রদায় ও বিদেশি নাগরিক হত্যা। বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া এবিটি ও নব্য জেএমবির সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

কৌশল বদলে গা-ঢাকা দিয়েছে জিয়া-মুসা-চকলেট।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একের পর এক অভিযানে ছিন্নভিন্ন জঙ্গি নেটওয়ার্ক। পৌনে এক বছরে ৮টি অভিযানে নিহত হয় ৩৪ জঙ্গি। তবে এবিটি প্রধান মেজর জিয়া রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। একাধিকবার ধরতে গিয়েও মেজর জিয়াকে ধরতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

জঙ্গি দমনে নিয়োজিত একাধিক কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, দেশেই আত্মগোপনে মেজর জিয়া। জিয়ার মুখে দাড়ি ছিল। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে দাড়ি ছেটে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে মারজান নিহত হওয়ার পর জেএমবিকে সক্রিয় রাখার চেষ্টায় পলাতক মইনুল ইসলাম ওরফে আবু মুসা নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে ধারণা গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টদের। মূলত মুসাকে ধরতেই গত ২৩ ডিসেম্বর আশকোনার আস্তানায় অভিযান পরিচালিত হয়। আস্তানার বাইরে থাকায় ধরা পড়েননি তিনি।

অন্যদিকে নব্য জেএমবির মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিতে সক্রিয় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বাসারুজ্জামান ওরফে চকলেট। গুলশান হামলার আগে নব্য জেএমবির কাছে বৈদেশিক অর্থায়ন সংগ্রহ ও বণ্টনের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। পাশাপাশি সংগঠনের আইটিবিষয়ক কাজও তদারক করে।

সূত্র জানায়, এ তিনজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। রাজধানীর অদূরে সাভার ও গাজীপুরসহ সম্ভাব্য ১০টি স্থানে মেজর জিয়া ও মুসাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তবে ধরা সম্ভব হয়নি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, পলাতক দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা যাতে সংগঠিত হতে না পারে কিংবা বড় ধরনের হামলার ছক কষতে না পারে সেজন্য নিয়মিত অভিযান চলছে। শিগগিরই দ্রুত তাদের গ্রেফতার সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দেশে পালিয়ে থাকার মতো কোনো জায়গা জঙ্গিদের থাকবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। মুসাসহ যেসব জঙ্গি পলাতক শিগ